সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে স্বর্ণের কানের দুলের জন্য তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা ইয়াসমিনকে (৯) শ্বাসরোধে হত্যা এবং তার মরদেহ আলমারিতে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ঘাতক সন্দেহে গণপিটুনিতে সুরাইয়া আক্তার নামের এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যুর ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও থানায় কোনো মামলা হয়নি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে ময়নাতদন্ত শেষে শিশু ফারজানার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত সুরাইয়া আক্তারের ময়নাতদন্ত মঙ্গলবার বিকেলে সম্পন্ন হয়।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনার পর থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও থানায় কোনো মামলা করা হয়নি, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত শিশু ফারজানা ইয়াসমিন কাশিবাটি গ্রামের কৃষক ও ভ্যানচালক এনামুল হকের মেয়ে এবং ৪১ নম্বর কাশীবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অপরদিকে গণপিটুনিতে নিহত ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুরাইয়া আক্তার একই গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী ও লুৎফর রহমানের মেয়ে। সুরাইয়ার স্বামী ঢাকায় ইটভাটায় কাজ করেন এবং তাদের তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহত ফারজানার খালা মরিয়ম বেগম অভিযোগ করে বলেন, সোনার দুলের লোভেই তার বোনের মেয়েকে সুরাইয়া হত্যা করেছেন।
জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে সুরাইয়া তাকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে কানের দুল ছিঁড়ে নেয় এবং শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখে। দুপুরে স্কুল ছুটির পরও ফারজানা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়।
খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ সুরাইয়া আক্তারের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করে। এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সুরাইয়াকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পুলিশ কোনো মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ফারজানা ও গণপিটুনিতে নিহত সুরাইয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
সময়ের আলো/জোই