জামানতযুক্ত ঋণ হিসেবে গণ্য হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত করা এবং আন্তর্জাতিক ব্যাসেল-থ্রি নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বড় ধরনের

2026-07-22T04:27:16+00:00
2026-07-22T04:27:30+00:00
 
  বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
জামানতযুক্ত ঋণ হিসেবে গণ্য হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৭ এএম  আপডেট: ২২.০৭.২০২৬ ৪:২৭ এএম
সংগৃহীত ছবি
দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত করা এবং আন্তর্জাতিক ব্যাসেল-থ্রি নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও হিসাবরক্ষণে পরিবর্তন এনেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি নতুন সার্কুলার জারি করেছে। 

সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো এই সার্কুলারে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ব্যাংকিং খাতের তারল্য ঝুঁকি পর্যালোচনা ও নেট স্টেবল ফান্ডিং রেশিও সংক্রান্ত নতুন এই কাঠামো চলতি ২০২৬ সালের ৩০ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট বুঝতে গেলে মূলত ২০১৫ সালের একটি নির্দেশনার দিকে ফিরে তাকাতে হয়। দেশের ব্যাংকগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং আকস্মিক তারল্য সংকট মোকাবিলায় সহনশীলতা তৈরির লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি একটি নীতিমালা জারি করা হয়। সেখানে ব্যাংকিং খাতে লিকুইডিটি কভারেজ রেশিও (এলসিআর) এবং নেট স্টেবল ফান্ডিং রেশিও (এনএসএফআর) বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। 

পরবর্তীতে দেশের অর্থনীতি, মুদ্রাবাজার এবং ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ লেনদেনের পরিধি পরিবর্তনের ফলে তারল্য ব্যবস্থাপনায় কিছু নতুন সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে খোলাবাজার কার্যক্রমের (ওএমও) সংশোধিত রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে।

ওএমও সংক্রান্ত সংশোধিত এই নির্দেশিকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ব্যাংকিং খাতের তারল্য সহায়তার ক্ষেত্রে একটি বড় হিসাবরক্ষণে পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে সেন্ট্রাল ব্যাংক রেপো, স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি কিংবা ইসলামিক ব্যাংকগুলোর জন্য প্রযোজ্য লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে যে অর্থ লেনদেন হতো, সেটিকে অনেকটা সরাসরি সিকিউরিটিজ বিক্রয় লেনদেন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। 

কিন্তু সংশোধিত নিয়মে এ ধরনের লেনদেনকে স্পষ্টভাবেই জামানতযুক্ত ঋণ হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর হিসাবরক্ষণের এই বড় পরিবর্তনের কারণেই ব্যাংকগুলোর নেট স্টেবল ফান্ডিং রেশিও হিসাব করার আগের টেমপ্লেটে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর জমা দেওয়া আর্থিক তথ্যের সঠিকতা ও ঝুঁকি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করতে বিদ্যমান কাঠামোটিতে কিছু নতুন বিভাগ যুক্ত করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল। এর ফলে নতুন নির্দেশনায় বিদ্যমান গাইডেন্স নোটে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। 

ব্যাংকগুলোর একে অন্যের সঙ্গে রেপো লেনদেনের মাধ্যমে যে দায় তৈরি হয় তা এখন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দেনা বা পাওনা শীর্ষক নির্দিষ্ট ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া সব ধরনের জামানতযুক্ত অর্থায়নের জন্য একটি স্বকীয় স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাতে করে রেপো বা স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটির প্রকৃত চিত্র আলাদাভাবে ফুটে ওঠে।

সিকিউরিটিজ গণনার ক্ষেত্রেও এবার এসেছে লক্ষণীয় পরিবর্তন। আগের নির্দেশনা অনুসারে নির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণ সিকিউরিটিজের ক্রয়মূল্য হিসাব করার যে নিয়ম প্রচলিত ছিল, তা বাতিল করে নতুন দুটি ক্যাটাগরি তৈরি করা হয়েছে। এখন থেকে সরকারকে দেওয়া ঋণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিকিউরিটিজকে দায়মুক্ত এবং দায়বদ্ধ- এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করে আলাদাভাবে প্রতিবেদন পেশ করতে হবে। ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা সিকিউরিটিজের কোন অংশটি মুক্ত রয়েছে এবং কোনটি জামানত হিসেবে আটক রয়েছে, তা পৃথকভাবে স্পষ্ট করার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত তারল্য সক্ষমতা সহজেই মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।


ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞাতেও বেশ কিছু স্পষ্টীকরণ আনা হয়েছে সার্কুলারটিতে। বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিভিন্ন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ব্যাংকগুলোর ঋণ বা আমানতের তথ্য নির্দিষ্টভাবে আলাদা রাখার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে দেশের বাইরের ব্যাংক এবং বিদেশি অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রাখা অর্থ বা প্রদত্ত ঋণের হিসাবও নির্ধারিত ছকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। 

এর ফলে আন্তঃব্যাংক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি স্বচ্ছ ও আধুনিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে যে, সব তফসিলি ব্যাংককে নতুন নির্ধারিত ছক অনুসরণ করেই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত ও জমা দিতে হবে। তবে এই পরিবর্তনগুলো ছাড়া ২০১৫ সালের মূল সার্কুলারে উল্লিখিত অন্যান্য বিধান ও শর্তাবলি অপরিবর্তিত এবং বলবৎ থাকবে। ব্যাংক পরিচালনা বা সার্কুলার বাস্তবায়নে কোনো অস্পষ্টতা দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট তদারকি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করতে এবং একটি স্বচ্ছ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 



  বিষয়:   জামানতযুক্ত  ঋণ  কেন্দ্রীয় ব্যাংক  রেপো 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: