উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বড় ধরনের বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা ব্যারেজ’-এর সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৪ মিটার (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীটির নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমি ইতোমধ্যেই প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে পানি হু হু করে বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের ৪৪টি গেটই খোলা রাখা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন জানান, নিম্নাঞ্চলের ফসলি খেত ও উঠানে পানি প্রবেশ করায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢল অব্যাহত থাকলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সময়ের আলো/জোই/কেএইচ