প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৩ পিএম আপডেট: ০৭.০৯.২০২৬ ৫:০৬ পিএম
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা ভবন, ঝালকাঠি। ছবি : সময়ের আলো ঝালকাঠি জেলায় মোট ৫৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ১২৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান। এর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৮৭টি সহকারী শিক্ষকের পদও খালি থাকায় সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষক সংকট।
এতে একদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব বিদ্যালয়ে একইসঙ্গে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি সংকটপূর্ণ।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৯১ নম্বর বেরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ২ বছর ধরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তাকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং প্রশাসনিক কাজও করতে হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে তাকে নিয়ে মাত্র ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। ফলে, বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
কাঁঠালিয়া উপজেলার ৪৪ নম্বর কাঁঠালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে, তিনি সহকারী শিক্ষকের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাই পাচ্ছেন। বিদ্যালয়ে ৩০১ জন শিক্ষার্থী থাকায় প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি অন্যান্য কাজ পরিচালনা করতে তাকে বেশ চাপের মধ্যে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর ঝালকাঠি জেলার সাধারণ সম্পাদক ও টিআইবির সনাক সদস্য ইসমাঈল মুসাফির বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষকও প্রয়োজন।’ পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থাপনা কমিটিতে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব কমানো এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হলে সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করছি।’
সময়ের আলো/মহু