প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
লঞ্চঘাট। ছবি : সময়ের আলোচরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া–ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলে প্রচলিত ‘রোটেশন পদ্ধতি’র কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকা সত্ত্বেও এ পদ্ধতির কারণে সব লঞ্চ প্রতিদিন চলাচল না করায় কেবিন ও ডেকে জায়গা পাওয়া নিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের জন্য বেতুয়া–ঢাকা নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পথে পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকলেও রোটেশন পদ্ধতির কারণে প্রতিদিন সব লঞ্চ চলাচল করে না। অভিযোগ রয়েছে, লঞ্চমালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন এক থেকে দুটি লঞ্চ পরিচালনা করা হয়। এতে যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় আসন ও কেবিনের সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে ছুটির দিন ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের সময় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, লঞ্চের টিকিট ও কেবিনের সংকটকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু কর্মচারী ও দালাল নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত টাকা দাবি করেন। অতিরিক্ত অর্থ দিতে না চাইলে কেবিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট লঞ্চমালিক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন মিয়া বলেন, এ এলাকা থেকে প্রতিদিন অনেক মুমূর্ষু রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। কিন্তু লঞ্চে কেবিন বা পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে ডেকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয়, যা রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রোটেশন পদ্ধতির কারণে যাত্রীসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, জনস্বার্থের পরিবর্তে মালিকপক্ষের বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, রোটেশন পদ্ধতি বন্ধ এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিগ্যাল নোটিশ
আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। যাত্রীদের প্রতিবাদের মুখে মাঝেমধ্যে এ পদ্ধতি বন্ধ থাকলেও কিছুদিন পর আবার তা চালু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বেতুয়া–ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখা, রুট পারমিটধারী লঞ্চগুলোর নিয়মিত চলাচল নিশ্চিত করা এবং কেবিন বুকিংয়ে স্বচ্ছতা আনার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও জেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। যাত্রীদের মতে, কেবিন বুকিংয়ে ডিজিটাল বা অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে টিকিটের কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসন হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের।
সময়ের আলো/জোই