এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী নূরই আকরামকে দেড় লাখ টাকাসহ আটকে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। ছবি : সময়ের আলোপঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সড়কের উন্নয়ন কাজ তদারকির সময় নূরই আকরাম নামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে দেড় লাখ টাকাসহ আটকে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের গিদালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক নূরই আকরাম বোদা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই টাকা সড়কের কাজে অনিয়ম ও অবৈধ লেনদেনের অংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাকোয়া-নয়াদীঘি ভায়া বোয়ালমারী পাকা সড়কের নির্মাণ কাজ চলছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই সড়কে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করছে। তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী নূরই আকরামকে বিষয়টি বারবার জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি কাজ পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়রা কাজের মান ও বরাদ্দ সংক্রান্ত নথিপত্র দেখতে চান। এ সময় তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তারা তার পথরোধ করে ব্যাগ তল্লাশি করতে চাইলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতা প্রকৌশলীর ব্যাগ তল্লাশি করতে চাইছে এবং ব্যাগে অবৈধ টাকা রয়েছে বলে দাবি করছে। পরে ব্যাগ থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বোদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টাকা জব্দসহ প্রকৌশলীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে অভিযুক্ত প্রকৌশলী নূরই আকরাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া টাকাগুলো আমার ব্যক্তিগত। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আমি টাকাগুলো সঙ্গে রেখেছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, খবর পেয়ে আমরা উপসহকারী প্রকৌশলীকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসি। তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমরা টাকার উৎস সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। বিষয়টি এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এলজিইডি পঞ্চগড় জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। নির্মাণ কাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস কী, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকৌশলী আটকের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সড়কের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই