প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ এএম
অভিযুক্ত মো. জাহেদুল ইসলাম ও সাংবাদিক আজগর সালেহী। ছবি : সংগৃহীতচট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চোরাই রাবার উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে আজগর সালেহী নামে এক সংবাদকর্মীকে অপহরণ, হত্যা ও মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দৈনিক সাঙ্গুর ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার নিজস্ব প্রতিনিধি আজগর সালেহী। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ভূজপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
অভিযোগে মো. জাহেদুল ইসলাম নামে এক যুবলীগ নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা আবু তৈয়বের অনুসারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম নগরে পাচারের সময় একটি কাভার্ডভ্যান থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার কেজি চোরাই রাবার উদ্ধার করে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় ভূজপুর থানায় চুরির মামলা করা হয়। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জাহেদুল ইসলাম, রাসেলসহ আরও কয়েকজনের নাম এসেছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে এ ঘটনা নিয়ে দৈনিক সাঙ্গুতে সংবাদ প্রকাশ করেন আজগর সালেহী। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সংবাদের জেরে ২১ অক্টোবর রাত ১০টা ১২ মিনিট ও ১০টা ১৪ মিনিটে ০১৭৭৭৪০৭৭৭৭ নম্বর থেকে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করা হয়। এ সময় তাঁকে তুলে নিয়ে হত্যা এবং মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফোনে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে আবু তৈয়বের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাঁদের সংঘবদ্ধ বাহিনী রয়েছে বলে দাবি করেন। ভবিষ্যতে সংবাদ সংগ্রহের কাজে উত্তর ফটিকছড়িতে গেলে তাঁকে তুলে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
অভিযুক্ত জাহেদুল ইসলাম উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের মো. রফিকের ছেলে।
আজগর সালেহীর অভিযোগ, জাহেদুলের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী ফেস্টুন ও ব্যানারসংবলিত পোস্ট দেখা গেছে। এ ছাড়া পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের আহ্বানসংবলিত পোস্টও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আজগর সালেহী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ প্রকাশের কারণে এমন হুমকি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
এ বিষয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. লিটন মিয়া বলেন, জিডিটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই