মো. মুস্তাফিজুর রহমান কাজল, জামালপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৮ এএম
একশ ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জামালপুর হাইটেক পার্কের নির্মাণকাজ দীর্ঘ নয় বছরেও শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ছবি : সময়ের আলোএকশ ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জামালপুর হাইটেক পার্কের নির্মাণকাজ দীর্ঘ নয় বছরেও শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিশ্ববাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরির স্বপ্ন নিয়ে ২০১৭ সালের ১ জুলাই জামালপুরে এই হাই-টেক পার্কের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর প্রশিক্ষণ পাবেন এক হাজার তরুণ-তরুণী, কর্মসংস্থান হবে তিন হাজার মানুষের।
কিন্তু দীর্ঘ নয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্ন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এখন পর্যন্ত একশ ৫৩ কোটি টাকার প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩৯ শতাংশ। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে মেয়াদ বাড়ানোর পরও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় আবারও ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। জামালপুর পৌর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকায় সাড়ে পাঁচ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন পার্কটি চালু হলে জেলার তরুণদের জন্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘসূত্রতায় সেই সম্ভাবনা এখনও অধরাই রয়ে গেছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বড় প্রতিষ্ঠানের অভাবে দক্ষতা অর্জন করেও অনেক তরুণকে কাজের সন্ধানে রাজধানী ঢাকামুখী হতে হচ্ছে।
জানা যায় ‘২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ভারত সরকারের অর্থায়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন। ২০১৭ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি। সরকার পতনের পর দীর্ঘদিন এর নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। পরে পার্কের নির্মাণকাজ আবারও শুরু করা হলেও বাড়েনি এর গতি। বর্তমানে দ্বিতীয় দফায় ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারতের লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হলেও এর অধীনে কনফিডেন্স গ্রুপ সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছে।
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আরাফাত বলেন, হাই-টেক পার্ক চালু হলে আমরা দক্ষতা বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারব। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের পাঠ্যক্রমে এইচটিএমএল ও সিএসএসের মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে। প্রযুক্তিতে এগোতে ব্যবহারিক শিক্ষা খুবই জরুরি।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘পার্কটি চালু হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ বাড়বে, ল্যাব সংকট কমবে এবং তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। তাই পার্কের দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক সুজিত রায় বলেন, পার্কটি চালু হলে জেলার তরুণ-তরুণীরা আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। এতে দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ বিষয়ে জানার জন্য জামালপুর হাইটেক পার্কের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বর্তমানে এই প্রকল্পের ৩৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে। ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে আমাদের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
পার্কটি চালু হলে এখানে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, পাশাপাশি প্রতি বছর এখান থেকে এক হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ পাবেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে