প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম আপডেট: ২২.১০.২০২৬ ৩:৩৪ পিএম
রানু বেগম ও তার ছেলে হাসিব শান্ত। ছবি : সময়ের আলো মেঘনার উত্তাল ঢেউ বিশ বছর আগেই কেড়ে নিয়েছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবককে। স্বামী হারানোর সেই গভীর শোক ও অভাবের সঙ্গে লড়াই করে যখন জীবন কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই আবার নির্মম আঘাত হানলো সড়ক দুর্ঘটনা। এবার একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে হাসিব শান্ত দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে শয্যাশায়ী।
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার চরফৈজুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা রানু বেগমের জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। চিকিৎসার অভাব এবং অনাহারে পুরো পরিবারটি এখন চরম দিশেহারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই দশক আগে মেঘনায় আকস্মিক ট্রলার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান রানু বেগমের স্বামী মো. শাহজাহান। স্বামীর অকালমৃত্যুর পর তিন সন্তান—সুরভি, রাত্রি ও হাসিব শান্তকে নিয়ে কঠিন সংগ্রামে নামেন তিনি। শাক ও নারকেল বিক্রি এবং ঘরে সেলাইয়ের কাজ করে সন্তানদের কষ্টেসৃষ্টে বড় করেন। বড় মেয়ে সুরভিকে বিয়ে দেওয়ার পর ছোট মেয়ে রাত্রি চলতি বছর মনপুরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।
সংসারের হাল ধরতে এবং বোন ও মায়ের খরচ জোগাতে পড়াশোনা ছেড়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি বেকারির মার্কেটিংয়ের চাকরি নেন একমাত্র ছেলে হাসিব শান্ত। শান্তর আয়েই কোনো মতে চলছিল টানাপোড়েনের সংসার। কিন্তু সেই স্বস্তিও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গত ২৯ মে ত্রিশালে দায়িত্ব পালনকালে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শান্তর দুই পা মারাত্মকভাবে পিষে যায়।
প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, শান্তর জীবন বাঁচাতে দুই পা কেটে ফেলতে হতে পারে। পরবর্তীতে স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় সংগৃহীত টাকায় ঢাকার দুটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চালানো হলেও একপর্যায়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ছাড়াই পঙ্গু শান্তকে নিয়ে গ্রামে ফিরে আসতে বাধ্য হন মা রানু বেগম।
পড়াশোনার পাশাপাশি শান্ত সামাজিক কাজেও সক্রিয় ছিলেন। উপকূলীয় অঞ্চল কিংবা ঢাকা—যেকোনো জায়গায় অসহায় রোগীদের রক্তের প্রয়োজনে এগিয়ে যেতেন তিনি। এখন বিনাচিকিৎসায় যন্ত্রণাদায়ক দিন কাটাচ্ছেন এই তরুণ। শান্ত আকুতি জানান, বিত্তবানদের সহায়তায় তিনি যেন আবার সুস্থ হয়ে সংসারের হাল ধরতে পারেন এবং মানুষের সেবায় ফিরতে পারেন।
রানু বেগমের এই পরিবারটিকে মানবিক বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে এবং হাসিব শান্তর চিকিৎসার সুব্যবস্থা করতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা : হাসিব শান্ত (বিকাশ ও নগদ): ০১৬০০৩২৮১৭৬।
সময়ের আলো/জোই