ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম দেশ হিসেবে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সাইবার সুরক্ষায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ফরাসি পার্লামেন্টে বিপুল সমর্থনে এ সংক্রান্ত বিলটি পাস হয়। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর স্বাক্ষরের পর এটি আইনে পরিণত হবে ও আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হবে।
বিলটিতে বলা হয়েছে, ১৫ বছরের কম বয়সীরা টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটসহ বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে দেশটির ডিজিটাল ও অডিওভিজ্যুয়াল নিয়ন্ত্রক সংস্থা আর্কম।
বিল পাসের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ লিখেছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই ১৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হবে। শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্ক এবং আবেগ কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার পণ্য হতে পারে না বলেও তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন।
আর্কমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা প্রতিদিন গড়ে ১ ঘণ্টা ২১ মিনিট টিকটক ব্যবহার করে। প্ল্যাটফর্মটির অ্যালগরিদম অনেক সময় কিশোরদের সামনে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে এমন বা ক্ষতিকর কনটেন্ট বেশি তুলে ধরে বলেও দবি করেছে সংস্থাটি। তবে আইনটি বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করা।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, শিশুদের নিরাপদ রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবসায়িক মডেল এবং আসক্তি তৈরির ফিচারেও পরিবর্তন আনতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার পর ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপজুড়ে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নতুন নীতির পথ খুলে দিতে পারে। স্পেন, গ্রিস, ডেনমার্ক এবং যুক্তরাজ্যও একই ধরনের পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
সময়ের আলো/এমকে