নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর—এই দুটি সীমান্তবর্তী উপজেলা। প্রতিবছরই ভারতের সীমান্তবর্তী নদী ও ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয় এলাকাগুলো। এতে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটসহ নানা স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এবারও গত সোমবার সীমান্তের নদী-নালা দিয়ে প্রবল পাহাড়ি ঢল প্রবেশ করে কলমাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। ঢলের পানিতে রাস্তাঘাট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে এখনো তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বর্ষাকালে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে প্রায়ই পাহাড়ি ঢল নামে। এই পানি সাধারণত বেশি সময় স্থায়ী না হলেও এর প্রবল স্রোতে সীমান্ত এলাকার ঘরবাড়ি ভেঙে যায় এবং রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যানচলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় স্থানীদের তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই করার থাকে না।
এ বছরও গত সোমবার হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নেমে কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ও লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বুধবার সকালের দিকে ঢলের পানি নেমে গেলেও তীব্র স্রোতে অনেক জায়গায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়। তা ছাড়া একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক পরিবার। অন্যদিকে বীজতলার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঢলের তীব্র তোড়ে গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পরপরই জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পাহাড়ি ঢল নামলেও তা বেশি সময় স্থায়ী হয় না। তবে পানির তোড়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেশ কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়ি ও সড়কের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এ ছাড়া সড়ক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে এবং কৃষি কর্মকর্তাদেরও ক্ষতি নিরূপণে মাঠে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই