কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ২ জন কক্ষ পরিদর্শক ও প্রশাসনের মনোনীত দুজন ইনভিজিলেটর (ট্যাগ অফিসার) কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আক্তার তাদেরকে অব্যাহতি দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের অধীনে ৫টি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ইসলামের ইতিহাস, ইতিহাস, ব্যবস্থাপনা ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যে ইতিহাস বিভাগের ৮ নম্বর কক্ষে মোট ১৬ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। এর মধ্যে ৮ জন পুরাতন এবং ৮ জন চলতি বছরের পরীক্ষার্থী।
পরীক্ষা শুরুর পর দেখা যায়, ইতিহাস বিষয়ের পরিবর্তে ২০২৫ সালের পুরনো প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরীক্ষার্থীরা আপত্তি জানান এবং পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করলে কেন্দ্রে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে কর্তৃপক্ষ পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কেন্দ্রের অন্যান্য পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জন শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দিয়ে সঠিক প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার, কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াদুদ আলীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
এছাড়া, ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও কক্ষ পরিদর্শক কুদ্দুস আলী এবং আশিকা প্রেয়ারীকেও পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের মনোনীত ইনভিজিলেটর জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী হাসান আলী এবং সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি) রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পরীক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব আসাদুজ্জামান সরকার লিটুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান সরকার লিটু বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম। শুনেছি ভুলবশত ইতিহাস বিভাগের পুরনো প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। পরে সঠিকভাবে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।’
যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ ওয়াদুদ আলী বলেন, ‘শারীরিক সমস্যার কারণে আমি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি।’
তবে, ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করার পর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দুইজন কক্ষ পরিদর্শক ও দুইজন ইনভিজিলেটরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অধ্যক্ষ ওয়াদুদ আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’
সময়ের আলো/মহু