নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর তালিকায় নাম থাকলেও এখনো অনেকেই টাকা পাচ্ছেন না- এমন অভিযোগ উপজেলার বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীদের। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কারসাজিও হতে পারে এটা। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে সংশ্লিষ্ট দফতর বলছে, ভাতাভোগীদের হিসাব নম্বরে প্রতিমাসে টাকা চলে যায়।
উপজেলা মহিলা অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় মাতৃত্বকালীন মোট ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ১০১ জন। যেখানে ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বালুভরা ইউনিয়নে মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৬০ জন।
মাতৃত্বকালীন ভাতা (মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি) মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর থেকে প্রতিমাসে ৮৫০ টাকা করে সহায়তা দিচ্ছে সরকার। একজন ভাতাভোগী ৩৬ মাস এ টাকা পাবেন। অনেকে ভাতাভোগী হয়েছেন ২-৩ মাস আগে। কিন্তু এখনো তারা কোনো টাকা পাননি। এরমধ্যে অনেকের সন্তান জন্ম হয়েছে। অনেকে ভাতার টাকা পাবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
ভাতাভোগী রিপোর্টে বালুভরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভরট্ট গ্রামের গৃহবধূ নাদিরা বানু ১৫ নম্বর তালিকাভুক্ত।
তার স্বামী মো. ডাবলু ফকির বলেন, ‘স্ত্রী দ্বিতীয়বারের মতো গর্ভবতী। শহরের একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে কয়েকদিন আগে ২ মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। এরমধ্যে একজন মারা গেছে। মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য প্রায় ৪ মাস আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে অনলাইনে আবেদন করা হয়েছিল। এরপর ২ মাস আগে তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পাওয়া যায়নি।’
গৃহবধূ বৃষ্টি ১২ নম্বর ও কবিতা আক্তার ১৪ নম্বর তালিকাভুক্ত। গত রোববার ভরট্ট গ্রামে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। তারা সন্তান প্রসবের জন্য শহরের ক্লিনিকে গেছে বলে তাদের স্বজনরা জানায়।
গৃহবধূ বৃষ্টির শশুর রতন আলী ও কবিতা আক্তারের শ্বশুর হোসেন আলী জানান, কয়েকমাস আগে মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য আবেদন করার পর তারা তালিকাভুক্ত হয়েছে। কিন্ত এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পাওয়া যায়নি।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের হযরতপুর গ্রামের গৃহবধূ বৈশাখী ভুয়ানি, ২ নম্বর ওয়ার্ডের বারাতৈল গ্রামের গৃহবধূ মোছা. আদরী ও খোর্দ্দভুবন গ্রামের গৃহবধূ শ্রীমতি নুপুর রানীর স্বামী অসীত কুমার মন্ডল, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বালুভরা গ্রামের গৃহবধূ জুলেখার স্বামী রুবেল হোসেনও একই অভিযোগ জানান।
বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আল এমরান হোসেন বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ভাতার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে। হ্যাকররা গ্রামের সহজ সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ওটিপি নিয়ে অনেক সময় টাকা উত্তোলন করে নেয়। এলাকায় মাইকিং করাসহ উপকারভোগীদের সচেতন করা হয়েছে। তবে, কোনো অনিয়ম করা হয়নি।’
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘যারা মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী হয়েছেন, তাদের হিসাব নম্বরে প্রতিমাসে টাকা চলে যায়। তবে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোবাইল নম্বর ও ব্যাংকের হিসাব নম্বর ভুল হলে টাকা যাবে না।’
তিনি আরও জানান, যারা মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে তাদের ভুলগুলো সংশোধন করে নিতে হবে। যদি এ সময়ের মধ্যে সংশোধন না করে, এরপর আর সে টাকা পাবে না বা মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর তালিকা থেকে বাদ হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা নিয়ে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তবে, ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর, ফোন নম্বর বা ব্যাংকের হিসাব নম্বর যদি ভুল হয় তাহলে টাকা যাবে না। যদি এসব ভুল হয়ে থাকে, তাহলে যাচাই করতে হবে। কেউ যদি টাকা না পেয়ে থাকে, ওই ভুক্তভোগী অফিসে যোগাযোগ করলে সফটওয়ারে যাচাই করে সমস্যা সমাধান করা হবে।’
সময়ের আলো/মহু