১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চেয়েছে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতায় ভূমিকা পালনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের ‘বিনিময় স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল’ চেয়েছে পাকিস্তান। বিষয়টি

2026-07-23T03:38:52+00:00
2026-07-23T03:38:52+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬,
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চেয়েছে পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৮ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতায় ভূমিকা পালনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের ‘বিনিময় স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল’ চেয়েছে পাকিস্তান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। 

আবেদনটি অনুমোদিত হলে নগদ অর্থসংকটে থাকা দেশটির অর্থনীতির জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসা এই আবেদনটি করা হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকার পরপরই। এই কূটনৈতিক ভূমিকা যেমন পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে, তেমনি ওয়াশিংটন ও অন্য অংশীদারদের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশাও জাগিয়ে তুলেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে পাঠানো ওই অনুরোধে, ওয়াশিংটন ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি ১০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে ইসলামাবাদ কঠোর আর্থিক ও মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখলেও, এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তা পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে তহবিলটি তাদের মুদ্রার ওপর চাপ কমাবে এবং বহুপক্ষীয় অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা হলেও হ্রাস করবে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। 

অন্যদিকে রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব। বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতি যে ঝুঁকিতে পড়ছে, সে বিষয়টি তুলে ধরেন। তবে বিবৃতিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের অনুরোধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ক্যাপিটাল মার্কেটে সহজ প্রবেশাধিকার, উচ্চতর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং উন্নত সার্বিক ক্রেডিট রেটিংয়ের ভিত্তিতে পাকিস্তানের বাজারমুখী ফেরার যাত্রায় সুনির্দিষ্ট মার্কিন সহায়তা চেয়েছেন আওরঙ্গজেব। এতে আরও বলা হয়, উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করা, বড় মার্কিন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা এবং কৌশলগত প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বর্তমানে আইএমএফের ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির অধীনে রয়েছে পাকিস্তান। এই ব্যবস্থার ফলে রাজনৈতিকভাবে অপ্রিয় কর বৃদ্ধি, সরকারি খরচ কমানো এবং নানা ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে দেশটি। ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফ্যাসিলিটি’ বা দ্বিপক্ষীয় স্থিতিশীলতা সহায়তা হলো মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের একটি বিরল সহায়ক ব্যবস্থা, যা সাধারণত ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ এর মাধ্যমে ডলার, কারেন্সি সোয়াপ বা গ্যারান্টি প্রদান করে রিজার্ভ ধরে রাখা ও মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখে।


এই সুবিধাটি স্থায়ী স্ট্যান্ডিং ডলার সোয়াপ লাইন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, যা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ বিশ্বের কয়েকটি প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বজায় রাখে এবং বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক সরবরাহ সচল রাখে। মেক্সিকোর সঙ্গে ১৯৪০-এর দশক থেকে চলে আসা (যার বর্তমান আকার ৯ বিলিয়ন ডলার) দীর্ঘদিনের সোয়াপ লাইন বাদ দিলে, ২০০২ সালে উরুগুয়ের পর ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনার প্রাপ্ত প্যাকেজটিই ছিল কোনো বিদেশি সরকারের জন্য মার্কিন সরকারের এ ধরনের প্রথম নতুন ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন’ কার্যক্রম।

২০২৩ সালে আইএমএফের ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি সাময়িক চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান অল্পের জন্য খেলাপি হওয়া থেকে বেঁচে যায়। পরবর্তীতে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে আরও ১.৩ বিলিয়ন ডলারের পৃথক একটি ঋণসহ ৭ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ অনুমোদন পায় দেশটি। কিন্তু এত কিছুর পরও পাকিস্তানের রিজার্ভ মূলত অফিসিয়াল অর্থায়ন, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং চীন ও সৌদি আরবের আমানতের ওপরই নির্ভর করে আছে। ফলে দ্বিপক্ষীয় সহায়তার পরিবর্তন বা আইএমএফের কিস্তি ছাড়ে বিলম্ব ঘটলে চরম ঝুঁকিতে পড়ে ইসলামাবাদ। 

এই দুর্বলতার চিত্র গত এপ্রিলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতকে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার (যা তৎকালীন রিজার্ভের এক-পঞ্চমাংশ) পরিশোধ করতে হয় পাকিস্তানকে। পরবর্তীতে অবশ্য সৌদি আরব আবার ৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তা প্রদান করে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানুয়ারিতে জানিয়েছিল যে, তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৬ সালের শেষের দিকে ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২১ সালের তাদের সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি। উল্লেখ্য ১ ডলার সমান ২৭৮ পাকিস্তানি রুপি।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   মার্কিন ডলার  পাকিস্তান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: