সাতক্ষীরায় ভারী বর্ষণে পৌর এলাকাসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। পৌরসভা সাতক্ষীরার কামালনগর, ইটাগাছা, মধুমল্লারডাঙ্গী, বদ্দীপুর কলোনি, মধ্যকাটিয়া, রইচপুর, রাজারবাগান, পুরোনো সাতক্ষীরাসহ সদর উপজেলার মাগুরা, বিনেরপোতা, গোপিনাথপুর, গোবিন্দপুর, মাছখোলা, ঝাউডাঙ্গা, বল্লী, লাবসা, ধূলিহর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে একদিকে ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা, অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত নানা রোগ। ফলে লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে দিনাতিপাত করছেন।
পৌরসভায় অচল হয়ে পড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও শহরতলিতে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করাকে জলাবদ্ধতার কারণ বলছেন ভুক্তভোগীরা। ডুবে যাওয়া ঘরবাড়িতে রান্নাবান্না করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। সাপ ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রবে আতঙ্কিত জনসাধারণ। রাস্তা জলমগ্ন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে অনেক এলাকায়।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, মানুষের ফেলা ময়লা-আবর্জনা এবং কিছু অসৎ মানুষের অবৈধ স্থাপনার কারণে প্রতি বছর সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কষ্ট পাচ্ছেন লাখো মানুষ।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, পৌরসভাসহ সদর উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ চলমান রয়েছে। বিগত সময়ের মতো এবারও কিছু পয়েন্টে ড্রেন করে বা খাল খনন করে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, অতি বর্ষণে জেলার ৬৩টি প্রাইমারি স্কুল জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এর মধ্যে আশাশুনি উপজেলায় ২০টি, কলারোয়ায় ১০টি, তালায় ১টি, শ্যামনগরে ১২টি ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২০টি স্কুল ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। চেয়ার-বেঞ্চ ডুবে যাওয়ায় সেসব স্কুলে ক্লাস চালানো খুবই কষ্টের। তবু কোমলমতি শিশুদের কথা ভেবে কষ্ট করে হলেও ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে পারছেন না শিক্ষকরা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিএম সেলিম জানান, বৃষ্টির পানিতে দুই শতাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে যার আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি কোটি টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ছয় হাজার হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে। আর কিছু সবজি ক্ষেত পচে গেছে।
নাগরিক অধিকার উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শহরের মধ্যে বিধিবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।
এ ছাড়া শহরতলিতে যত্রতত্র মাছের ঘের জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী। জলাবদ্ধতা দূর করতে খালগুলো গভীর করতে হবে। এ ছাড়া পানি আটকে যারা যত্রতত্র মাছ চাষ করছে সেগুলো অপসারণ করতে হবে। এ ছাড়া নেট-পাটা অপসারণ করাও জরুরি।
পৌরসভার বদ্দীপুর কলোনির বাসিন্দা আছমা খাতুন বলেন, আমরা এক যুগ ধরে জলাবদ্ধতার মধ্যে আছি। বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রান্না করা সম্ভব হয় না। ছেলেমেয়েরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মধ্যে বসবাস করে আমরা ন্যূনতম নাগরিক সেবাও পাই না।
ইটাগাছা এলাকার মাসুদ হোসেন বলেন, আমাদের পরিবারের সবার পায়ে ঘা-পাঁচড়া হয়েছে। একদিকে যেমন প্রচুর চুলকাচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালা-যন্ত্রণাও করছে।
সময়ের আলো/আরবিএন