প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলমান বিক্ষোভ ও অচলাবস্থার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, নিট পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে সংসদে আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে টানা তৃতীয় দিনের মতো বর্ষাকালীন সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রমও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সংসদ চত্বরে কালো পোশাক পরে বিক্ষোভ করেন বিরোধী সাংসদরা। তাদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবিচার করেছে এবং এ বিষয়ে জবাবদিহি এড়ানোর চেষ্টা করছে।
রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না। তিনি দায়িত্বে থাকলে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য আলোচনা সম্ভব নয়।’
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদের অবস্থানের সমালোচনা করা হয়েছে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, সরকার প্রথম দিন থেকেই নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা আলোচনায় অংশ না নিয়ে বারবার নতুন নতুন শর্ত আরোপ করছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও একই সুরে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে কংগ্রেস নেতা কে.সি. ভেনুগোপাল বলেন, গোটা দেশ যখন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন সংসদের অন্যান্য কার্যসূচি স্থগিত রেখে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
তবে বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে একমাত্র সমাধান হিসেবে তুলে ধরা বাস্তবসম্মত নয়। তাদের মতে, বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন শর্ত দিয়ে আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে এবং সরকার ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অবিশ্বাস সৃষ্টি করতে চাইছে।
সময়ের আলো/এসএকে