চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ আগস্ট নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, রমনা মডেল থানার পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে, গত বছরের ২০ অক্টোবর চিত্রনায়ক সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। পরে আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
উল্লেখযোগ্য যে, গত ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা পূর্বের অপমৃত্যু মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্য রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের পর ওই দিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে এই হত্যা মামলাটি রেজিস্ট্রি করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ রহস্যজনকভাবে মারা যান। ওই সময়ে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। আদালত অপমৃত্যু ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ একসাথে তদন্তের দায়িত্ব দেন সিআইডিকে। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করে।
একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে সিআইডির প্রতিবেদন গৃহীত হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর বাবা। ২০০৩ সালের ১৯ মে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান। প্রায় ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন, যেখানে সালমানের মৃত্যুকে আবারও অপমৃত্যু হিসেবেই দেখানো হয়।
কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর প্রয়াণের পর মা নীলা চৌধুরী মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচার বিভাগীয় ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। সর্বশেষ পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) বিষয়টি তদন্ত করে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১২ জুন এই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবারও রিভিশন মামলা দায়ের করে বাদীপক্ষ।
সময়ের আলো/জেডি