দিল্লির যন্তর-মন্তরে শুরু হওয়া আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবার তাদের আন্দোলন কলকাতায় ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ জুলাই) একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করতে কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছে সংগঠনটি। এদিকে আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কাজও শুরু করেছে পুলিশ। কারণ, প্রশাসনের আশঙ্কা— এই আন্দোলন আরও বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯ ও ২১ জুলাই যৌথ পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার) এবং যৌথ পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম)-এর কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে মিছিলের অনুমতি চাওয়া হয়। ই-মেইলগুলো পাঠিয়েছেন দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি নিজেকে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, প্রথম আবেদনটি নাকচ করা হয়েছিল। এরপর ২৪ জুলাই মিছিলের অনুমতি চেয়ে নতুন করে আবেদন করা হয়। আবেদনে ককরোচ জনতা পার্টির নাম উল্লেখ থাকলেও আবেদনকারী সত্যিই সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনও যাচাই করছে পুলিশ।
সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় মিছিলটি কলেজ স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে রানি রাসমণি রোড পর্যন্ত যাবে। আয়োজকদের দাবি, এতে প্রায় ১,৫০০ জন অংশ নেবেন।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, তারা আবেদন পেয়েছে এবং বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে অনুমতি দেওয়া হোক বা না হোক, সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায় শিক্ষা-সংক্রান্ত দুর্নীতি বা অন্য কোনো দুর্নীতির মামলায় যাদের নাম জড়িয়েছে, তাদের এই বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
কলকাতার এই সম্ভাব্য কর্মসূচি এমন এক সময়ে আসছে, যখন কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লির বাইরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরে সিজেপির বিক্ষোভের পরিকল্পনার খবর সামনে আসার পর কেন্দ্র রাজ্যগুলোর কাছে সতর্ক থাকার নির্দেশনা জারি করেছে।
এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল দিল্লির যন্তর-মন্তরে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের জবাবদিহি, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবি জানান।
পরে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন।
এরপর ককরোচ জনতা পার্টি দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ডাক দেয়। তাদের দাবি, এক লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছেন। তবে দিল্লির আন্দোলনের একাংশে সহিংসতার ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা জোরদার করে প্রশাসন।
আন্দোলন আরও বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রাজ্যকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ