ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) যন্তর-মন্তরের বিক্ষোভ যখন শিরোনামে রয়েছে, তখন সংগঠনের অন্যতম পরিচিত মুখ অভিজিৎ দিপকের আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। অসুস্থতার কারণে দিনের কিছু সময় তিনি বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে এক্সে সমর্থকদের জানিয়েছেন তিনি।
দিপকে লেখেন, গত কয়েক দিন ধরে আমি জ্বর এবং তীব্র শরীর ব্যথায় ভুগছি। তবে ব্যথার মধ্যেও ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে চালিয়ে যাচ্ছি। আজ যন্তর-মন্তরে আমাকে না দেখলে দয়া করে ক্ষমা করবেন। কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে সুস্থ হওয়ার প্রয়োজন আছে। সন্ধ্যার মধ্যে আবার বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসব।
তার এই পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার সুস্থতা কামনা করেছেন, আবার কেউ বিক্ষোভ থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
সমর্থকদের একজন লিখেছেন, ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন— সামনে দীর্ঘ লড়াই রয়েছে।
আরেকজন লিখেছেন, আমি দেখেছি, এমন জ্বরের মধ্যেও তিনি যেভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে চেয়েছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
তবে অনেকে তার প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন না। একজন মন্তব্য করেন, জ্বর আর পেট খারাপের নানা অজুহাত দিয়ে, চুপচাপ বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে ভালো বিশ্রাম, ভালো খাবার আর আরামদায়ক বিছানা উপভোগ করা— যেখানে ‘আসল শিক্ষার্থীরা’ প্রচণ্ড গরমে বসে আছে। এটাই সিজেপির নেতা।
দিপকের পোস্ট ঘিরে নানা মিমও ছড়িয়ে পড়ে।
একজন রসিকতা করে লেখেন, আমার বংশে প্রথমবার দেখলাম, কেউ আন্দোলনের মধ্যে অসুস্থতার ছুটি চাইছে।
আরেকজন লেখেন, ঠিক আছে ভাই, নিজের যত্ন নিন। আপনি ওষুধ খান, লাঠি তো বাচ্চারা খেয়ে নেবে।
আরেকজন শুধু লেখেন, আন্দোলনের মধ্যে অসুস্থতার ছুটি।
এদিকে কিছু ব্যবহারকারী দিপকের অনুপস্থিতির সময়কে আন্দোলনের অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। একটি ভাইরাল মন্তব্যে লেখা হয়— আজ সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে রাহুল গান্ধীর অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। নেতারা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করছেন। গতকাল সোনম ওয়াংচুক বিজেপি নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। আজ অভিজিৎও কিছু বিশ্রামের জন্য আন্দোলনস্থল ছাড়ছেন। বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখুন।
তবে এসব দাবি ও ব্যাখ্যা শুধুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মতামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিজিৎ দিপকের এই পোস্ট এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দিল্লিতে নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে সিজেপির নেতৃত্বে বিক্ষোভ চলছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ