যৌন কেলেঙ্কারিতে বদলেছে যেসব বিশ্বনেতার ভাগ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যৌন কেলেঙ্কারি ও ফৌজদারি মামলায় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে ক্ষমতার

2026-07-23T20:38:17+00:00
2026-07-23T21:03:47+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬,
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যৌন কেলেঙ্কারিতে বদলেছে যেসব বিশ্বনেতার ভাগ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম  আপডেট: ২৩.০৭.২০২৬ ৯:০৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যৌন কেলেঙ্কারি ও ফৌজদারি মামলায় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও যৌন কেলেঙ্কারি, আইনি জটিলতা কিংবা নৈতিক বিতর্কে জড়ানোর নজির নতুন নয়। কেউ ক্ষমতা হারিয়েছেন, কেউ কারাদণ্ড ভোগ করেছেন, আবার কেউ বিতর্ক সত্ত্বেও রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন। ট্রাম্পসহ বিশ্বের কয়েকজন আলোচিত রাষ্ট্রনায়কের এমন বিতর্কিত অধ্যায় তুলে ধরা হলো।

ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্র)

সম্প্রতি এফবিআইয়ের প্রকাশিত জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত একটি নথিতে ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। নথিতে এক অজ্ঞাতনামা নারী দাবি করেন, আশির দশকে তার বয়স যখন ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল, তখন এপস্টিন তার সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ট্রাম্প তাকে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৯ সালে দেওয়া এই জবানবন্দি এতদিন প্রকাশ হয়নি।

তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্পপন্থীদের দাবি, বহু আগেই ট্রাম্প এপস্টিনকে একজন ‘অসভ্য’ ব্যক্তি হিসেবে চিনতেন এবং ২০০৪ সালে মার-এ-লাগো ক্লাবের কর্মচারী ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় তাকে ক্লাব থেকে বের করে দেন। যদিও আশি ও নব্বইয়ের দশকে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি যৌন কেলেঙ্কারি ও ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ২০২৩ সালে লেখক ই. জিন ক্যারলকে যৌন নির্যাতনের দায়ে তাকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে আদালত নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ‘হাশ মানি’ বা গোপন অর্থ দেওয়ার তথ্য গোপন করতে ব্যবসায়িক নথি জালিয়াতির মামলায় ট্রাম্প ৩৪টি ফৌজদারি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হুয়ান মার্চেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে ‘শর্তহীন অব্যাহতি’ দেন।

বিল ক্লিনটন (যুক্তরাষ্ট্র)

মার্কিন প্রেসিডেন্টদের যৌন কেলেঙ্কারির আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম বিল ক্লিনটন। ১৯৯৮ সালে হোয়াইট হাউসের ইন্টার্ন মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

তবে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৯৪ সালে আরকানসাসের সরকারি কর্মচারী পলি জোন্সের দায়ের করা যৌন হয়রানির মামলার মাধ্যমে। ওই মামলায় শপথ নিয়ে মনিকার সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেছিলেন ক্লিনটন। পরে মনিকার পোশাকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে ক্লিনটনের ডিএনএ মিলে যাওয়ায় তিনি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন।

মিথ্যা সাক্ষ্যের অভিযোগে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদ তাকে অভিশংসিত করলেও ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটের ভোটে তিনি পদে বহাল থাকেন। আদালত অবমাননা ও মিথ্যা সাক্ষ্যের দায়ে তাঁকে জরিমানা করা হয়। পরে ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বিনিময়ে পলি জোন্সের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা করেন ক্লিনটন।

মোশে কাৎসাভ (ইসরায়েল)

যৌন অপরাধে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়া রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে অন্যতম ইসরায়েলের অষ্টম প্রেসিডেন্ট মোশে কাৎসাভ।

২০০৬ সালে তার বিরুদ্ধে প্রথম যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। শুরুতে তিনি অভিযোগ করেন, এক নারী কর্মী তাকে ব্ল্যাকমেল করছেন। কিন্তু তদন্তে ওই নারী অভিযোগ করেন, ১৯৯৮ সালে কাৎসাভ তাঁকে দুইবার ধর্ষণ করেছিলেন। পরে আরও দুই নারী কর্মী যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।

২০০৭ সালে আপস-মীমাংসার সুযোগ থাকলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে আদালত তাকে দুই দফা ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাঁর বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ’ উল্লেখ করে জানায়, কোনো নারীর ‘না’ মানেই ‘না’। ২০১১ সালে তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সিলভিও বারলুসকোনি (ইতালি)

ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির সবচেয়ে আলোচিত বিতর্ক ছিল ‘রুবিগেট’ কেলেঙ্কারি।

২০১০ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি নিজের প্রাসাদে ‘বুঙ্গা বুঙ্গা’ পার্টির আয়োজন করতেন এবং সেখানে ১৭ বছর বয়সী মরক্কোর কিশোরী করিমা এল মারুগ (রুবি)-কে অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করেন।

রুবি চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হলে বারলুসকোনি পুলিশকে ফোন করে দাবি করেন, রুবি মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের নাতনি। পরে তাকে মুক্তিও দেওয়া হয়।

২০১৩ সালে নিম্ন আদালত তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিলেও ২০১৪ সালে উচ্চ আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে সেই রায় বাতিল করে তাঁকে খালাস দেন।

জ্যাকব জুমা (দক্ষিণ আফ্রিকা)

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগকারী ছিলেন তার পারিবারিক বন্ধুর মেয়ে এবং এইচআইভি পজিটিভ সমাজকর্মী ফেজেকিলে এনতসুকেলা কুজওয়েও, যিনি ‘খুয়েজি’ নামে পরিচিত ছিলেন।


জুমা দাবি করেন, সম্পর্কটি সম্মতিতেই হয়েছিল। ২০০৬ সালে আদালত তাকে খালাস দেন। তবে শুনানিতে তিনি বলেন, এইচআইভি সংক্রমণ এড়াতে তিনি যৌন সম্পর্কের পর ‘গোসল’ করেছিলেন। এই মন্তব্যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

পরে ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হলেও অভিযোগকারী নারী হুমকি ও সামাজিক লাঞ্ছনার মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ২০১৬ সালে নেদারল্যান্ডসে তার মৃত্যু হয়।

ফারনান্দো লুগো (প্যারাগুয়ে)

রোমান ক্যাথলিক চার্চের বিশপ থেকে রাজনীতিতে আসা ফারনান্দো লুগো ২০০৮ সালে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই ভিভিয়ানা কারিলো নামে এক নারী তার সন্তানের পিতৃত্ব দাবি করে মামলা করেন। তার অভিযোগ, ১৬ বছর বয়সে লুগোর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যখন লুগো বিশপ ছিলেন।

২০০৯ সালে লুগো প্রকাশ্যে সন্তানের পিতৃত্ব স্বীকার করেন। পরে আরও দুই নারী একই দাবি তোলেন।

একজন ক্যাথলিক বিশপের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তার রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালের জুনে সিনেট অভিশংসনের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টদের গোপন জীবন

ফ্রান্সে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আইনে সুরক্ষিত হলেও কয়েকজন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত জীবন রাষ্ট্রীয় বিতর্কে পরিণত হয়।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁ প্রায় দুই দশক তার প্রেমিকা অ্যান পিঞ্জো ও তাদের কন্যা মাজারিন পিঞ্জোর অস্তিত্ব গোপন রাখেন। তাদের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োজিত ছিল। বিষয়টি গোপন রাখতে সাংবাদিকদের ফোনেও আড়ি পাতার অভিযোগ ওঠে। ১৯৯৪ সালে একটি ম্যাগাজিনে ছবি প্রকাশের পর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

অন্যদিকে ২০১৪ সালে ফরাসি সাময়িকী ক্লোজার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের স্কুটারে করে অভিনেত্রী জুলি গায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার ছবি প্রকাশ করলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর জেরে ফার্স্ট লেডি ভ্যালেরি ট্রাইয়েরউইলারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে যায়।

জন এফ. কেনেডি (যুক্তরাষ্ট্র)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির জীবদ্দশায় তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবাদমাধ্যম নীরব থাকলেও মৃত্যুর পর নানা তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

এফবিআইয়ের অবমুক্ত নথি অনুযায়ী, কেনেডির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল জুডিথ ক্যাম্পবেল এক্সনারের সঙ্গে। একই সময়ে জুডিথের সম্পর্ক ছিল মাফিয়া ডন স্যাম জিয়ানকানা ও জন রোজেলির সঙ্গেও।

১৯৭৫ সালে সিনেটের চার্চ কমিটির কাছে জুডিথ স্বীকার করেন, তিনি কেনেডি ও মাফিয়াদের মধ্যে গোপন বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যস্থতা করতেন। ১৯৬০ সালের নির্বাচনে শিকাগোর ভোট নিশ্চিত করতে কেনেডি তার মাধ্যমে মাফিয়াদের কাছে অর্থ ও নথি পাঠিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যার পরিকল্পনায়ও তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে জানান।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   যৌন কেলেঙ্কারি  বিশ্বনেতা  প্রেসিডেন্ট 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: