ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে পাকিস্তানভিত্তিক প্রায় ৪৮০টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে ব্লক করেছে দিল্লি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিল্লি পুলিশ জানায়, এসব অ্যাকাউন্ট শিক্ষার্থী আন্দোলনকে ঘিরে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তাই শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে যাচাই না করা তথ্য বা পোস্টে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
এই সতর্কবার্তা এসেছে যন্তর-মন্তরে চলমান ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর আন্দোলনের মধ্যে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ৩৪ দিন ধরে আন্দোলন চলছে।
‘৪০০-এর বেশি পাকিস্তানি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত’
এক ভিডিও বার্তায় দিল্লি পুলিশ জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত পাকিস্তানভিত্তিক ৪০০-এর বেশি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, আমরা লক্ষ্য করেছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৪০০-এর বেশি পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে, যারা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। এসব অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, শনাক্ত হওয়া এসব অ্যাকাউন্ট 'অপারেশন সিন্দুর' চলাকালেও সক্রিয় ছিল।
শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান
পুলিশের মতে, এসব অ্যাকাউন্টের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে উসকানি দেওয়া এবং বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা।
পুলিশ বলেছে, এসব অ্যাকাউন্টের একটাই উদ্দেশ্য— মানুষকে উসকে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিল্লি পুলিশের আহ্বান, কোনো ভুয়া পোস্ট, সম্পাদিত (এডিট করা) ভিডিও বা অজ্ঞাত পরিচয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করতে।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
ভারতে চলমান সিজেপি আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পাকিস্তান এটিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ ধরনের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করি না।
আন্দোলন অব্যাহত
বৃহস্পতিবার টানা ৩৪তম দিনের মতো যন্তর-মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যায় ককরোচ জনতা পার্টি। নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও সমর্থক সেখানে জড়ো হন।
২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির পর থেকে আন্দোলনস্থলে মানুষের উপস্থিতি আরও বেড়েছে। ওইদিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ