ঐক্যের বার্তায় নতুন ছকে রংপুর বিএনপি

সাইফুল ইসলাম, রংপুর

সারাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর সাংগঠনিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও সমন্বয়হীনতার কারণ খুঁজে আত্মসমালোচনায়

2026-07-24T01:55:30+00:00
2026-07-24T01:55:30+00:00
 
  শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬,
৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ঐক্যের বার্তায় নতুন ছকে রংপুর বিএনপি
সাইফুল ইসলাম, রংপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৫ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর সাংগঠনিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও সমন্বয়হীনতার কারণ খুঁজে আত্মসমালোচনায় নেমেছে বিএনপি। সামনে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে হারানো রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের প্রথম পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা। 

তাদের বিশ্বাস, এসব নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারলে জাতীয় নির্বাচনের ভরাডুবির ধাক্কা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক নির্দেশনার আলোকে তৃণমূলে বিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে এবার জাতীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে বিএনপির নেতারা মনে করছেন, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং সমন্বয়ের অভাব প্রত্যাশিত ফল অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক নির্দেশনার পর রংপুরে দলকে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করছেন নেতাকর্মীরা।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ১৬টি, তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি ২টি, বিএনপি ১৪টি আসনে জয় পেয়েছে। একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। বিশেষ করে রংপুর জেলায় একটি আসনও জিততে পারেনি বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ না নেওয়া, জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল রংপুরের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এনেছে।

এই প্রেক্ষাপটে গত শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নেতাদের নিয়ে সাংগঠনিক সভা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান  ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) ও ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ বিভাগের শীর্ষ নেতারা। সভায় দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু বুধবার সময়ের আলোকে বলেন, দল তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা সবাই একযোগে কাজ করছি।

রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ঐক্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হবে।

রংপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা আফজাল টিটু বলেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই নির্বাচনে বিএনপির ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে তারেক রহমানের নির্দেশনার পর সেই বিভেদ দূর করে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করলে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আরও ভালো ফল করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বিভাগের নেতাদের বৈঠকের পর রংপুরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে বিএনপি আবারও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন অনেক বেশি সক্রিয় ও আত্মবিশ্বাসী। তার বিশ্বাস, কেন্দ্রের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে আগামী দিনে রংপুরে বিএনপি আরও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসবে এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সফল হবে।

অন্যদিকে রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং রংপুর আইনজীবী সমিতির সমাজকল্যাণ ও ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাউসার আলী বলেন, রংপুরে জামাত ইসলামীর সাংগঠনিক ভিত্তি আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে এটিএম আজহারের নাম ঘোষণার পর নেতাকর্মীরা এক যোগে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে জামায়াতে ইসলামী রংপুরে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন জামায়াতে ইসলামীর জন্য জনসমর্থন ধরে রাখা এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রংপুরের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   রংপুর  বিএনপি  রাজনীতি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: