আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে আগামী এক বছরের মধ্যে ‘প্রজেক্ট কুশা’র আওতায় তিনটি দীর্ঘপাল্লার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর অংশ হিসেবে এই প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) বৃহস্পতিবার ওডিশা উপকূলে ১২০ কিলোমিটার পাল্লার কুশা এম-১ ইন্টারসেপ্টরের প্রথম সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৫০ কিলোমিটার পাল্লার এম-২ এবং ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার এম-৩ ইন্টারসেপ্টরের পরীক্ষা করা হবে।
প্রজেক্ট কুশার আওতায় তৈরি তিনটি ইন্টারসেপ্টরই দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলো ভারতের বিদ্যমান মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মে মাসে ভারতের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিএস) প্রকল্পটির অনুমোদন দিলেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এর গতি বাড়ানো হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই অভিযানের সময় পাকিস্তান প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোন দিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো সফলভাবে প্রতিহত করে।
ভারতীয় সামরিক বাহিনীর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভবিষ্যতের যুদ্ধ মূলত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোননির্ভর হবে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতেও হাজারো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।
এ কারণে প্রজেক্ট কুশার আওতায় শুধু ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নয়, দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে। এসব রাডার সীমান্তের ওপার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে।
এদিকে চলতি বছরের নভেম্বরে রাশিয়া থেকে চুক্তির আওতায় পঞ্চম এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ভারত। একই সঙ্গে আরও পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা সংগ্রহের উদ্যোগও নিয়েছে নয়াদিল্লি। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাশিয়া থেকে ২৮০টির বেশি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় দেশটির দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে।
সময়ের আলো/কেএইচ