তাকওয়া ও সংযমের অনুশীলন

হামিদা আজহার হুরি

ইসলাম

বান্দার সঙ্গে রবের নৈকট্য লাভের প্রধান মাধ্যম হলো ইবাদত। এর মাধ্যমে বান্দা তার রবের অত্যন্ত কাছে চলে যায়। ইবাদতের মধ্যে

2026-07-24T11:36:20+00:00
2026-07-24T11:36:20+00:00
 
  বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলাম
আইয়ামে বীজ
তাকওয়া ও সংযমের অনুশীলন
হামিদা আজহার হুরি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বান্দার সঙ্গে রবের নৈকট্য লাভের প্রধান মাধ্যম হলো ইবাদত। এর মাধ্যমে বান্দা তার রবের অত্যন্ত কাছে চলে যায়। ইবাদতের মধ্যে রয়েছে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত প্রভৃতি। নামাজ বান্দার জন্য নিত্যদিনের ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত, তথা ফরজ। আর রোজার জন্য নির্ধারিত মাস রমজান। নামাজ যেমন ফরজ ব্যতীত সুন্নত ও নফল রয়েছে, তেমনি রমজানের ফরজ রোজার পাশাপাশি নফল ও সুন্নতের বিধান রয়েছে। আর আইয়ামে বীজের রোজা এমনই একটি সুন্নত। আরবিতে ‘আইয়ামে বীজ’ অর্থ উজ্জ্বল বা শুভ্র দিবস। প্রতি মাসের এই দিনগুলোয় চাঁদ পূর্ণিমার পূর্ণ আলো দেয়। যার কারণে এই দিনগুলোকে আইয়ামে বীজ নামে অবহিত করা হয়। মূলত, হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বীজ বা উজ্জ্বল দিবস। প্রত্যেক হিজরি (আরবি) চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রাখতে হয় এই রোজা। রাসুল (সা.) এই রোজার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং অসংখ্য ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হাদিসে নববীতে উল্লেখ আছে, আবু জার গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যদি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতে চাও, তবে ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখে রোজা রাখো।’ (সুনানে তিরমিজি : ৭৬১)।

আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত
আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ীসহ বিভিন্ন হাদিস কিতাবে বর্ণনা অনুযায়ী নবী করিম (সা.) আইয়ামে বীজের রোজা রাখতে সাহাবিদের নির্দেশ করেছেন। হাদিসে এই রোজাকে সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আবু হুরায়য়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখে, তার জন্য তা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য’ (সহিহ বুখারি : ১৯৭৯)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘ঈমানের পাশাপাশি সওয়াব লাভের আশায় যে ব্যক্তি রোজা পালন করে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়’ (বুখারি ও মুসলিম)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা, রোজা তার প্রবৃত্তিকে দমন করে।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

Advertisement

আইয়ামে বীজের রোজা রাখার নিয়ম
প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখ রাখতে হয়। এই রোজার নিয়ম ফরজ রোজার মতোই। রোজার জন্য নিয়ত করা অপরিহার্য। নিয়ত মনে মনে করতে হয়। নিয়ত রাতে বা ফজরের আগে করা উত্তম। (সহিহ মুসলিম : ১১৫১) রোজা আমাদের মাঝে তাকওয়া ও আত্মসংযম সৃষ্টি করে। এটি আমাদের চোখ, কান, জিহ্বা এমনকি নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। সব পাপের বিরুদ্ধে ঢালস্বরূপ ভূমিকা রাখে। আমাদের উদ্বুদ্ধ করে নফসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, মানুষের প্রতি উদার ও মহানুভব হতে এবং প্রস্তুত করে রবের হুকুম আঁকড়ে ধরতে। রোজা এমন ইবাদত যার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা দান করবেন। এটি মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করে, কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্তরে ঈমানের আলো প্রসারিত করে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর ইবাদত করার তাওফিক দিন।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   তাকওয়া  সংযম  অনুশীলন  আইয়ামে বীজ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: