খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ রং ধারণ করার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে কাঁচা ও রান্না করা উভয় মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। তবে এসব নমুনা কোন পরীক্ষাগারে (ল্যাবরেটরি) পাঠানো হবে এবং কোন কোন বিষয় (প্যারামিটার) পরীক্ষা করা হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে পাইকগাছা বাজারের এক বিক্রেতার কাছ থেকে পিকনিকের জন্য চার কেজি গরুর মাংস কেনেন স্থানীয় ‘মডার্ন বেকারি’র কর্মচারীরা। মাংসটি আগের দিন জবাই করা গরুর ছিল বলে জানা যায়। কর্মচারীদের দাবি, কড়াইতে মাংস রান্না শুরুর কিছুক্ষণ পরেই এর স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হতে শুরু করে।
অদ্ভুত এই দৃশ্য দেখে তারা হতবাক হয়ে যান। পরে তারা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে প্রথমে ওই মাংস বিক্রেতার কাছে যান। এরপর বিষয়টি জানাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানায় উপস্থিত হন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পাইকগাছা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মণ্ডল জানান, খবর পেয়ে রান্না করা মাংস ফেলে দেওয়ার আগেই তিনি তার নমুনা সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাংস বিক্রেতার দোকানের ফ্রিজ থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম কাঁচা মাংস জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে কাঁচা ও রান্না করা উভয় নমুনাই খুলনার জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান জানান, সংগৃহীত নমুনাগুলো বর্তমানে বিশেষ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরীক্ষাগারে পাঠানোর আগে মূলত কী কারণে এমন রং পরিবর্তন হতে পারে, তার সম্ভাব্য কারণগুলো নির্ধারণ করা জরুরি। এ লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে ল্যাব এবং পরীক্ষার বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হবে।
রং পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা জানান, সাধারণত মাংস পচে গেলে এ ধরনের সবুজ রং ধারণ করার কথা নয়। ধারণা করা হচ্ছে— রান্নার সময় ব্যবহৃত কোনো মশলা বা উপাদান, কড়াই কিংবা অন্য কোনো বাহ্যিক উপাদানের সঙ্গে মাংসের প্রোটিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এমন রঙের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কড়াইয়ের মাংসের টুকরোগুলোর রং পরিবর্তন হলেও ঝোলের রং কিন্তু স্বাভাবিক ছিল। এছাড়া ওই একই গরুর মাংস অন্য যারা কিনেছেন, তাদের কাছ থেকে এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই ল্যাবরেটরির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ছাড়া এখনই নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে মডার্ন বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেন জানান, প্রশাসনকে দেখানোর পর তারা বাকি মাংস ফেলে দিয়েছেন। কৌতূহলী কয়েকজন দেখতে চাওয়ায় শুধু সামান্য কিছু অংশ রাখা হয়েছিল। এখন ল্যাব পরীক্ষার ফলাফলেই আসল সত্য জানা যাবে— সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/জোই