বর্ষার বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের হামহাম জলপ্রপাত যেন ফিরে পেয়েছে তার অনন্য সৌন্দর্য। তবে এই সৌন্দর্যের টানে ছুটে আসা পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে জলপ্রপাতের পথ।
অবিরাম বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পিচ্ছিল ট্রেইলের কারণে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তবুও ঝুঁকি নিয়েই হামহামের পথে ছুটছেন পর্যটকরা।
কমলগঞ্জের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে অবস্থিত হামহাম জলপ্রপাত বর্ষায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় রূপ ধারণ করে। কিন্তু এ সময় সেখানে যাওয়ার পথ হয়ে ওঠে অত্যন্ত কঠিন।
উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তা, হাঁটু সমান কাদা, পাথুরে ও পিচ্ছিল ঢাল এবং পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোত পেরিয়ে যেতে হয় পর্যটকদের। সামান্য অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
গত ২০ জুলাই ঢাকা থেকে আসা ১০ সদস্যের একটি পর্যটক দলের এক সদস্য দুর্গম পথে পা পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হন। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ওই শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে গেলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করেন।
পরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ ও পর্যটকদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উদ্ধার অভিযানে থাকা প্রকৃতিপ্রেমী অনিক পাল বলেন, দুর্গম এই পথে বর্ষাকালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও অভিজ্ঞ গাইড ছাড়া এমন যাত্রা এড়িয়ে চলা উচিত।
পর্যটক গাইড মো. আহাদ মিয়া জানান, অনেকেই ট্র্যাকিংয়ের অভিজ্ঞতা ছাড়াই সঠিক জুতা বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া বনে প্রবেশ করেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
রাজকান্দি রেঞ্জের বন কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া বলেন, বর্ষাকালে হামহামের পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর ওপর বর্ষার মৌসুমে গহীন বনে হিংস্র বন্যপ্রাণীর বিচরণ ও উপদ্রব বহুলাংশে বেড়ে যায়।
সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে পর্যটকদের গহীন বনাঞ্চলে প্রবেশ এবং উঁচু টিলায় ওঠায় কঠোর নিরুৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সময়ের আলো/এমকে