ভারতে নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ না করা হলে তারা নতুন করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। হিন্দুস্তান টাইমস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সরকারের সঙ্গে বৈঠক
শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় কেন্দ্র সরকার ও সিজেপির মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস উপস্থিত ছিলেন।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, তাদের দাবিগুলো "আলোচনার বাইরে" এবং কোনোভাবেই পরিবর্তনযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, আমাদের দাবি স্পষ্ট। এখন স্বপ্নেও শুনি— ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দো’ (ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করুন)।
ডিইউ ও জামিয়ার শিক্ষার্থী আটক
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় দিল্লি পুলিশ ২৫ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
আটক শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া এবং একজন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের লোধি কলোনি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি ছিল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। অভিযোগ, তারা অনুমতি ছাড়া জমায়েতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং দিল্লি পুলিশ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক
জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক বৃহস্পতিবার রাতে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে ২৬ দিনের অনশন শেষ করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং উপস্থিত ছিলেন।
ওয়াংচুক জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আবেদন এবং দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি অনশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াংচুকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ওয়াংচুকের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তার অনশনকে "অসাধারণ সাহস ও আত্মত্যাগের উদাহরণ" বলে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি জানান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরের আন্দোলন চলবে।
২৪ জুলাই বন্ধ ছিল ১৮টি মেট্রো স্টেশন
নিরাপত্তার কারণে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) ২৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৮টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।
বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো— লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মন্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোরবাগ, শিবাজি স্টেডিয়াম, ঝান্ডেওয়ালান ও নিউ দিল্লি।
তবে রাজীব চৌক, মন্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে যাত্রী পরিবর্তনের সুবিধা চালু ছিল।
কেন চলছে যন্তর মন্তরের আন্দোলন?
সিজেপির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের মূল কারণ—
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ।
পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম।
শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা।
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ।
সিজেপির প্রধান চার দাবি
সিজেপি তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে চারটি মূল দাবি তুলে ধরেছে—
১. শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
২. নিট অনিয়মের কারণে আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ।
৩. শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা ফৌজদারি ব্যবস্থা না নেওয়া।
৪. আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
সিজেপি জানিয়েছে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ