দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কথিত পদক্ষেপের অভিযোগে দায়ের করা আবেদনের জরুরি শুনানির আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের “সময় নষ্ট করবেন না” মন্তব্যের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আবেদন শুনতে অস্বীকার করেছে— এমন খবর ভুলভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট কখনো কোনো মামলা শুনতে অস্বীকার করতে পারে না। আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আমরা ২৪ ঘণ্টাই মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত।
তিনি বলেন, যদি প্রথমেই আদালতের কাছে সঠিকভাবে কোনো আবেদন (পিটিশন) জমা না পড়ে, তাহলে শুনানি কীভাবে হবে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি কেউ এক পাতার একটি চিঠি দিয়ে শুনানির আবেদন করেন, সেটি সঠিক পদ্ধতি নয়। আমরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়েরের নির্ধারিত প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করতে পারি না। আমি তাদের বলেছিলাম, যথাযথভাবে আবেদন জমা দিতে। কিন্তু তারা তাৎক্ষণিক শুনানি চেয়েছিলেন। তাই তাদের সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন করার বার্তা দিতে হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট সঠিক নিয়ম মেনে জমা দেওয়া আবেদন গ্রহণ করেছে।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, আইনই সর্বোচ্চ। আমাদের আইন অনুসরণ করতেই হবে। আমি দেশের নাগরিকদের বলতে চাই, কেউ কোনো ধরনের অন্যায়ের শিকার হলে তাকে ন্যায়বিচার দিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনের আওতায় সব ধরনের চেষ্টা করবে।
পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগে সোমবার শুনানি
এর আগে শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অন্যান্য পরীক্ষা অনিয়মের প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সংক্রান্ত দুটি আবেদনের শুনানি সোমবার করার সম্মতি দেয়।
সিনিয়র আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ আদালতে বলেন, পুলিশ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করছে। আদালতই আমাদের ও পুলিশের মধ্যে সুরক্ষা দেওয়ার জায়গা।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জরুরি, কারণ অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনাগুলো প্রতিদিন ঘটছে।
নিট ইস্যুতে আন্দোলন
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে।
গত ২২ জুলাই দিল্লি হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল, পুলিশের কথিত অভিযানের সঙ্গে যুক্ত সব নথি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করতে।
২৬ দিনের অনশন শেষে সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার
৬ জুন শুরু হওয়া এই আন্দোলন আরও আলোচনায় আসে যখন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৮ জুন অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। ২৬ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন।
এনটিএতে বড় সংস্কারের উদ্যোগ
নিটসহ বিভিন্ন পরীক্ষার অনিয়মের পর সরকার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে।
সূত্রের খবর, আগামী এক মাসের মধ্যে এনটিএ-র পুরো ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হবে। অন্তত ৪৭ জন কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় দ্রুত বিচার আদালত গঠনসহ কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা করার একদিন পরই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এনটিএ-এর আউটসোর্সিং পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হবে।
উল্লেখ্য, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও ফেলোশিপ পরীক্ষার জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পরীক্ষামূলক সংস্থা হিসেবে ২০১৭ সালে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) গঠন করেছিল কেন্দ্র সরকার।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ