মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে গোপালগঞ্জে সবজি ও মাছের বাজারে চড়া দামের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। বাজারে এখন ৬০ টাকা কেজির নিচে কোন সবজিই কেনা যাচ্ছে না। পাশাপাশি পাঙাশ, রুই, কাতলা ও ইলিশসহ সব ধরনের মাছের দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের কেনাকাটায় নাভিশ্বাস উঠেছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) গোপালগঞ্জ শহরের বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, দিন দশেক আগে ২০-২৪ টাকায় বিক্রি হওয়া ঢ্যাঁড়শ ও মিষ্টি কুমড়ার কেজি এখন ৬০ টাকা। এছাড়া পটল, ঝিঙে, কাকরোল ও উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।
অন্যদিকে, ১ কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং রুই মাছ ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলাজুড়ে মাছ ও সবজির এমন অস্বাভাবিক দামে নিত্যদিনের বাজেট মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।
বাজারে মাছের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে মাছ বিক্রেতা নাজমুল বলেন, যেসব জেলা থেকে চাষের মাছ আসে, সেখানে বৃষ্টিতে মাছ ভেসে গেছে। এ সময়ে বাজারে ইলিশ মাছের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ার কথা থাকলেও গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে দাম আরও বেড়েছে।
ক্রেতা সাইফুল ইসলাম মানিক আক্ষেপ করে জানান, বাজারে এসে বাজেট ঠিক রাখতে না পেরে অনেক প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের। আরেক ক্রেতা মো. রায়হান আলম বলেন, আগে সপ্তাহে দুই-তিন দিন মাছ কিনতাম, এখন তা কমে এক-দুই দিনে নেমেছে। কিন্তু আয় বাড়েনি।
সবজির বাজার চড়া থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে ব্যবসায়ী আলিম, কিবরিয়া ও জাফর জানান, অব্যাহত বৃষ্টির কারণে সবজি নষ্ট হওয়ায় আড়তে পর্যাপ্ত আমদানি হচ্ছে না এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমেছে।
বিক্রেতা রমজান শেখ বলেন, আমরা বেশি দামে কিনি বলেই বাধ্য হয়ে সামান্য লাভ ধরে একটু বাড়তি দামে বিক্রি করছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান জানান, চলতি জুলাইয়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে জেলার ৮৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ডুবে নষ্ট হওয়ায় ১ হাজার ৩৬০ জন চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার ফলে স্থানীয় সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এ ছাড়া জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আরিফ হোসেন জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি অতি মুনাফা না করে ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের মধ্যে সমন্বয় রাখার জন্য বিক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডি