ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে থানার সামনে একটি পুরোনো ট্রাকে আগুন ও আবদুল্লাহপুর এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়েছে।
এজাহারে সাবেক কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আল হাসান তন্ময়, কোন্ডা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিফাত হোসেন শোভনসহ ১১ জনের নাম রয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ইকুরিয়া পশ্চিমপাড়া মসজিদগামী রাস্তার প্রবেশমুখে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্ভিস লেনের পাশে রাখা একটি পুরোনো ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পর আবদুল্লাহপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ওভারপাসের নিচে মুন্সীগঞ্জগামী সার্ভিস লেনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হয়।
পুলিশের দাবি, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জড়িতরা পালিয়ে যান। পরে তাদের গ্রেফতারে আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
এদিকে, ঘটনার পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাহপুর সাউথ টাউন আবাসিক এলাকার সামনে থেকে তিন নারী ও এক পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক নারীদের মধ্যে রয়েছেন কামরাঙ্গীরচর থানা যুব মহিলা লীগের সভাপতি পারুল বেগম এবং কদমতলী থানা যুব মহিলা লীগের সভাপতি হাসিনা শেখ। তাদের সঙ্গে নূরজাহান নামে আরো এক নারী ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন বলেন, ট্রাকে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলার পর অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, সাউথ টাউন এলাকার সামনে আগুন জ্বালিয়ে নাশকতার চেষ্টা করার সময় তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা