৮৩৭ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে মৌসুমের প্রথম জাহাজ

শেখ রাসেল, টেকনাফ (কক্সবাজার)

সারাদেশ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। ৮৩৭ জন পর্যটক নিয়ে মৌসুমের প্রথম

2026-11-06T04:51:19+00:00
2026-11-06T04:51:19+00:00
 
  শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
৮৩৭ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে মৌসুমের প্রথম জাহাজ
শেখ রাসেল, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫১ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। ৮৩৭ জন পর্যটক নিয়ে মৌসুমের প্রথম পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি বার আউলিয়া দ্বীপে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং হোটেল মালিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। জেটিঘাটে পর্যটকদের লাল গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করে নেন দ্বীপের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের আগমনে নতুন করে প্রাণ ফিরেছে দ্বীপের পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে।

বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে ৮৩৭ জন পর্যটক নিয়ে মৌসুমের প্রথম পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছায়। এর আগে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি।

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে মৌসুমের প্রথম জাহাজটি সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছে। প্রথম দিনেই ৮৩৭ জন পর্যটক নিয়ে এমভি বার আউলিয়া দ্বীপে এসেছে। সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর আরও বলেন, পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ও সুস্থভাবে পৌঁছেছেন। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কথা হয় স্থানীয় হোটেল মালিক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, অবশেষে দ্বীপে পর্যটকদের আগমন ঘটেছে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত। পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছি। দীর্ঘদিন পর তাদের আগমনে দ্বীপের পর্যটন ব্যবসায় নতুন করে প্রাণ ফিরেছে। হোটেল মালিক আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, আমাদের ব্যবসা মূলত পর্যটন মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। বছরে মাত্র তিন থেকে চার মাস ব্যবসা করার সুযোগ পাই আমরা। এই সময়ের আয় দিয়েই বাকি আট-নয় মাস পরিবারের খরচ চালাতে হয়। দীর্ঘদিন পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। পর্যটকদের আগমনে আবারও ব্যবসা চালুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। হোটেল মালিক আবুল কালাম আজাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের পর্যটন মৌসুম নিয়ে তারা বেশ আশাবাদী। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার টানা সাড়ে চার মাস পর্যটকদের দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ থাকায় ব্যবসা ভালো হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা। এ লক্ষ্যে আগেভাগেই হোটেল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।


দিনাজপুর থেকে আসা পর্যটক হৃদয় হাসান বলেন, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আসার জন্য কক্সবাজারে চার দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে আজ (বৃহস্পতিবার) দ্বীপে পৌঁছাতে পেরে খুবই আনন্দিত। আসার পথে কোনো ধরনের ঝামেলা বা ভোগান্তি হয়নি। নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পেরে ভালো লাগার কথাও জানান পর্যটক হৃদয় হাসান। তিনি আরও বলেন, দ্বীপে পৌঁছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ পেয়ে অপেক্ষার কষ্ট অনেকটাই ভুলে গিয়েছি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেন্টমার্টিনে আসার আনন্দই আলাদা। 

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে তিনটি জাহাজ। এগুলো হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এ সময়ে দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। দ্বীপে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও কর্মহীনতা কাটিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম ঘিরে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের নিয়ম মেনে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হলে দ্বীপের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   ৮৩৭ পর্যটক  সেন্টমার্টিন  মৌসুম  প্রথম জাহাজ 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: