২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অনেক তরুণ তারকার দারুণ পারফরম্যান্স দেখেছে ফুটবলপ্রেমীরা। একইভাবে বেশ কয়েকজন বিশ্বখ্যাত তারকা উপহার দিয়েছেন চরম হতাশা। নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারায় বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া মাধ্যম ‘ব্লিচার রিপোর্ট’ এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে হতাশাজনক একাদশ প্রকাশ করেছে।
সংবাদমাধ্যমটির আলোচিত এই ফ্লপ একাদশের আক্রমণভাগ ও অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। এছাড়া দলটির কোচের দায়িত্বে রাখা হয়েছে পর্তুগালের স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মার্টিনেজকে, যার অধীনে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয় পর্তুগাল।
গোলরক্ষক
ম্যানুয়েল ন্যয়ার (জার্মানি) : অবসর ভেঙে জার্মানির বিশ্বকাপ দলে ফিরে আসলেও গোলপোস্টের নিচে পুরোনো পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ ছিলেন ম্যানুয়েল ন্যয়ার। কুরাসাও ও আইভরি কোস্টের বিপক্ষে গোল খাওয়া এবং গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। তাই ফ্লপ একাদশের গোলরক্ষকের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
ডিফেন্ডার
রিস জেমস (ইংল্যান্ড) : ফিটনেসজনিত সমস্যার কারণে ৭২০ মিনিটের মধ্যে খেলেছেন মাত্র ৩১৮ মিনিট, যা ইংল্যান্ডের রাইট-ব্যাক পজিশনকে ভঙ্গুর করে তোলে।
গ্যাব্রিয়েল মাগালেস (ব্রাজিল) : পজিশনিং ও ডিফেন্সিভ ভুলের কারণে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ভুগেছেন। বিশেষ করে নরওয়ের আর্লিং হালান্ডকে দেওয়া সহজ হেডারের গোলটি ব্রাজিলকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয়।
জোনাথন তাহ (জার্মানি) : চার ম্যাচে একটিও ক্লিন শিট রাখতে পারেননি। পেনাল্টি শুটআউটে তার মিস করা শট জার্মানির প্রাথমিক বিদায় নিশ্চিত করে।
লুকাস দিগনে (ফ্রান্স) : টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ খেলা ফ্রান্স দলের দুর্বলতম সদস্য ছিলেন তিনি। সেমিফাইনালে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন।
মিডফিল্ডার
ফেদে ভালভের্দে (উরুগুয়ে) : দলের ট্যাকটিকস এবং কোচ মার্সেলো বিয়েলসার সঙ্গে মতবিরোধের গুঞ্জনের মাঝে নিজের সেরা ফর্ম খুঁজে পাননি ভালভার্দে।
ভিতিনহা (পর্তুগাল) : পিএসজির হয়ে উজ্জ্বল থাকলেও রোনালদোকেন্দ্রিক পর্তুগাল দলে নিজের স্বভাবজাত পাসিং ও নিয়ন্ত্রণ দেখাতে ব্যর্থ হন।
লেরয় সানে (জার্মানি) : এলোমেলো শট ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সুযোগ পেলেও আক্রমণে কোনো ধার তৈরি করতে পারেননি লেরয় সানে।
আক্রমণভাগ
ইয়ান দিওমান্দে (আইভরি কোস্ট) : প্রচুর পরিশ্রম করলেও গোল করার মূল দক্ষতায় অনেক পিছিয়ে ছিলেন আইভরি কোস্টের এই ফরোয়ার্ড।
ননি মাদুয়েকে : বুকায়ো সাকার বদলি হিসেবে মাঠে নামলেও ৫টি ম্যাচ খেলে দলের জন্য কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো : গোটা পর্তুগাল দল তার ওপর ভর করে খেললেও তার ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৩টি গোল। তার স্থলাভিষিক্ত গঞ্জালো রামোস ভালো করায় প্রশ্নও উঠেছে- রোনালদোকে সুপার-সাব হিসেবে ব্যবহার করলেই কি ভালো হতো?
ব্লিচার রিপোর্টের বিশ্বকাপ ফ্লপ একাদশ : ম্যানুয়েল ন্যয়ার (গোলকিপার) রিস জেমস, গ্যাব্রিয়েল মাগালেস, জোনাথন তাহ, লুকাস দিগনে, ফেদে ভালভের্দে, ভিতিনহা, লেরয় সানে, ইয়ান দিওমান্দে, ননি মাদুয়েকে ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কোচ : রবার্তো মার্টিনেজ।
সময়ের আলো/আআ