কিশোরগঞ্জের নিকলী, কটিয়াদী, ভৈরব ও মিঠামইন উপজেলায় পৃথক কয়েকটি ঘটনায় পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত শিশুরা হলো, নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্রী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ হাকিম (৫), গাজীপুরের টঙ্গী এরশাদ নগর এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে ও মাদরাসাছাত্র আরিফ হোসেন (১২), কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের মজলু মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (১১) এবং ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে শুভ ইসলাম স্মরণ (১২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে নিকলী উপজেলার নানশ্রী গ্রামে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল ৫ বছরের শিশু হাকিম। খেলার একপর্যায়ে সে সবার অজান্তে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী বাইতুল কোরআন কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও ৪০ জন শিক্ষার্থী হাওর ভ্রমণে মিঠামইনে আসেন। ঘোরাঘুরি শেষে ইসলামপুর ঘাট এলাকায় সবাই মিলে গোসল করতে নামলে পানির তীব্র স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হয় মাদরাসাছাত্র আরিফ হোসেন। পরে শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয়দের দীর্ঘ চেষ্টার পর দুপুরেই ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মিঠামইন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাইজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুপুর ২টার দিকে কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের নাঈম মিয়া সহপাঠীদের সঙ্গে বিলে গোসল করতে যায়। সাঁতার না জানার কারণে সে একটি প্লাস্টিকের বোতলকে ভাসমান সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করেছিল। গোসল শেষে বাড়ি ফেরার পথে বোতলটি বিলে ফেলে আসার কথা মনে পড়লে সেটি আনতে সে একাই আবার পানিতে নামে। এ সময় পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে সে ডুবে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শুভ ইসলাম স্মরণ। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে তার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে বিকেলে জগন্নাথপুর এলাকার নদী থেকে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা তা উদ্ধার করেন। ভৈরব থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস শুভর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সময়ের আলো/জোই