ঢাকার ধামরাইয়ের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ইসলামপুর এলাকায় একটি নষ্ট যাত্রীবাহী বাস দেখে থামতে গিয়ে একে একে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে অন্তত ৪ টি পরিবহন। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত তৃতীয় পরিবহন মোটরসাইকেলে পেছনের অন্য যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দিলে ২ জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, সকালে ইসলামপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মূল লেনে একটি বাস নষ্ট হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। বাসটির পেছনে থাকা একটি প্রাইভেট কার সেটি দেখে হঠাৎ ব্রেক করলে তার পেছনের একটি কাভার্ড ভ্যানও ব্রেক করে। কাভার্ড ভ্যানেরটির পেছনে ছিল দুটি মোটরসাইকেল। এরও পেছনে থাকা স্বাধীনতা পরিবহনের একটি মিনিবাস দ্রুতগতিতে এসে মোটরসাইকেল দুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারটি পরিবহনই।
নিহতদের কাছে থাকা পরিচয়পত্র থেকে জানা যায়, এরমধ্যে একজন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী আবাস সাহা। তিনি সাভারের আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকার জগন্নাথ সাহার ছেলে।
অন্য নিহত সুজয় সাহা মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা এলাকার আশুতোষ সাহার ছেলে। তিনি উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) পরীক্ষার্থী ছিলেন। তারা দুজনই একই পরিবারের ফুপাতো-মামাতো ভাই।
সাভার হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় অপর মোটরসাইকেলের আরোহী সৈয়দ নাইমুল হক (৩০) সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি সাভারের পল্লীবিদ্যুত এলাকার বাসিন্দা।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনচার্জ মো. ইউসুফ বলেন, ‘সকাল ৯ টার দিকে মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় সৈয়দ নাইমুল হককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে নিবির পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।’
ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক বলেন, ‘আমরা সকালে ট্রিপল নাইন (৯৯৯)-এর মাধ্যমে সংবাদ পাই যে ইসলামপুরে মহাসড়কের মূল লেনে একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে আসি। ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হই। পরে জানতে পারি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা গেছেন। তবে আমরা এখনো হাসপাতালে যেতে পারিনি। বর্তমানে ঘটনাস্থলে কাভার্ড ভ্যান, বাস এবং মোটরসাইকেল রয়েছে। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। যেহেতু এটি হাইওয়ে পুলিশের অধিক্ষেত্র, তাই তারা এসে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’
সাভার হাইয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’
সময়ের আলো/জোই