ঝালকাঠি শহরের পুরাতন কলেজ রোড এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্যাংক ম্যানেজার ও স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল ও রোমিওদের নিয়ন্ত্রণে স্পিড ব্রেকার এবং পুলিশের টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছে ওই সড়ক এলাকার বাসিন্দারা।
প্রত্যক্ষদর্শী মোখলেসুর রহমান ও মিঠুন চন্দ্র দাস জানান, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করায় বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পুরাতন কলেজ রোড দিয়ে তারা যাচ্ছিলো। এসময় বেপরোয়া গতিতে নম্বর প্লেট বিহীন একটি মোটরসাইকেল স্কুলছাত্রীকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা লেগে ছাত্রীটি ছিটকে ৫/৬হাত উপরে উঠে আবার নীচে পড়ে গেলে তার দু’পায়ের উপর দিয়ে চালিয়ে গিয়ে ব্যাংক ম্যানেজারকে চাপা দিয়ে সড়কের পাশে ড্রেনে পড়ে যায়। গুরুতর আহতাবস্থায় এদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মটোর বাইক চালক টিনপট্টি এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে এইচএসসি ফল প্রত্যাশী শিহাব। সে একাই মটোরসাইকেলে ছিলো। দুর্ঘটনার পরে অবস্থা গুরুতর দেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহত কালেক্টরেট স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী অর্পিতা সরকার বলে নিশ্চিত করেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশিকুল ইসলাম সাগর। অপর আহত মার্কেন্টাইল ব্যাংক ম্যানেজার পঙ্কজ কান্তি বিশ্বাস বলে নিশ্চিত করেছেন ওই ব্যাংকের কর্মকর্তা জিএম শাহ আলম।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ওসিসি প্রোগ্রাম কর্মকর্তা শ্বাতী গুহ জানান, আমরা দুপুরে খেয়ে বিছানাতে শুয়েছিলাম। বিকেল সাড়েতিনটার দিকে বাসার সামনে বড় ধরনের কোনো বিস্ফোরণ ঘটেছে এমন শব্দ পেয়ে বের হয়ে দেখি দুর্ঘটনায়। মেয়েটা এতো বেশি আহত হয়েছে যা দেখে আমরা জীবন-মৃত্যু নিয়ে আশঙ্কায় পড়ি।
ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, শহরের পুরাতন কলেজ রোড খ্যাত সড়কের দু’পাশে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি মহিলা কলেজ, শিল্পকলা ভবন, কালেক্টরেট স্কুল, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও মিনি পার্ক রয়েছে। এসড়কে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উঠতি বয়সী কিশোর ও রোমিওদের মটোরসাইকেলে বেপরোয়া চলাচল দেখা যায়। এছাড়াও কিশোর গ্যাংদের অবাধ আড্ডা এবং মারামারির ঘটনা প্রতিনিয়তই দেখা যায়। বেপরোয়া চলাচল রোধে স্পিড ব্রেকার এবং কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য রোধে পুলিশের টহল জোরদার করা উচিত। নয়তো এমন দুর্ঘটনা আমাদের জন্য একটি সাময়িক সংবাদ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সারাজীবনের কান্না বয়ে বেড়াতে হয়।
সদর থানার উপপরিদর্শক বশির আহমেদ দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মটোরসাইকেলটি আটক করেন।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জাবির হাসান বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর অবস্থা হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় মটোরসাইকেলটি আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝালকাঠি শহরের পুরাতন কলেজ রোডে দুর্ঘটনার স্থান পুলিশের পরিদর্শন।
সময়ের আলো/জোই