কবির নির্বাণ
কবিতা লিখতে লিখতে
কবির পাখা জন্মে যায়।
পাখা জন্মালে সে পাখা ঝাপটায়
পাখা ঝাপটাতে ঝাপটাতে সে উড়তে থাকে উলম্ব রেখায়।
উড়তে উড়তে সে পার হয়ে যায় দুঃখ-বেদনা, হাসি-আনন্দ, অভাব-অভিযোগ, ভয়-ক্রোধ, আশা-নৈরাশ্য সব।
তারপর মেঘের উপরে উঠে যায়।
নির্বাণের ওপার থেকে দেখে মানুষের যত আলোড়ন।
অথচ তখন এই সব তারে কিছুই ছোঁয় না।
এমনকি তার কবিতাও না।
সূর্য কেন জ্বলে
কেউ কি বলেছে আলো চাই,
আমাকে ভালোবেসে জ্বলে ওঠো।
পৃথিবীর মাটি থেকে বায়ুমণ্ডল পার হয়ে
মঙ্গল-বুধ অতিক্রম করে পৌঁছে গেছে কি হাহাকার–
আমাকে বাঁচাতে নিজেকে জ্বালো।
সূর্য কেন জ্বলে, নিজেকে পোড়ায়!
মহাবিশ্বের কোথাওতো পেলাম না প্রাণের ইশারা–পৃথিবী ছাড়া।
ঢাকার কবিরা
ঢাকার কবিরা খুব মদ খায়,
মদ না খেলে কবি হওয়া যায় না।
গালিব থেকে গিন্সবার্গ, হাফিজ থেকে রফিক আজাদ সবাই খেয়েছে।
মদ খেতে খেতে ঢাকাকে নোংরা ঘিঞ্জি আর কবিদের জন্য বসবাসের অযোগ্য মনে হয়।
তখন তারা মদের নেশায় বুঁদ হয়ে কল্পনায় প্যারিস, লন্ডন, নিউ ইয়র্কের পথে ভেসে যায়।
ভেসে যেতে যেতে নকশী কাঁথার মাঠের পাশে কি
জসীম উদ্দিনের দেখা পায়।
দেখে কি অসীমের পেয়ালা পিয়ে মত্ত হয়ে নাচের ঘূর্ণি তোলা শামস্ আর রুমিকে?
ধানসিঁড়ির তীরে বসে আছে বিমুগ্ধ জীবনানন্দ আর ইজারের তীরে একাকী রিলকে?
আশির্বাদ
আশির্বাদ করছি হে অনিন্দিতা, পরিপূর্ণ জ্যোৎস্নায় স্বচ্ছ আকাশের নিচে মৃদু দুলতে থাকা নাওয়ে জড়িয়ে শুয়ে থাক লাল শীফনে জড়ানো তোমার দেহ–তোমার প্রেমিক, অনিন্দ্য পুরুষ। ছুঁয়ে যাক অধরের পেয়ালা কপালে-কপোলে সারা রাত।
নিজেকে নিংড়ে ঢেলে দিক অমৃতধারা কেয়ার ঝোঁপের পাশে–তোমার তিমিরে।
তুমি তারে পান কর ধীরে-ধীরে রাত্রি জুড়ে যেন সেও কোনো অমর্ত্যের মদিরা।
*
নিস্তব্ধ দুপুর, গভীর বন,
একটি দীঘি, শান্ত, নীরব, নিঝুম।
কেউ নেই।
সহস্র কাল বয়ে যায়।
সহসা মানুষের শব্দ ঢেউ তুলে যায় নীরে,
মানুষ মানেই অযথা ঢিল চেতনার সরোবরে।