ইয়েমেনের হোদেইদাহ প্রদেশে সৌদি আরবের বিমান হামলার জবাবে দেশটির রাষ্ট্রীয় বাহিনী (ইয়েমেনি আর্মড ফোর্সেস) সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একাধিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইয়েমেনি বাহিনী জানায়, শুক্রবার রাতে সৌদি আরব হোদেইদাহ প্রদেশ, এর বন্দর এবং কৌশলগত কামারান দ্বীপে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায়। এতে ব্যাপক বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে ইয়েমেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি যুদ্ধবিমান প্রতিহত করে আরও হামলা ঠেকিয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এর জবাবে দুটি পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে জিজানে আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া ইয়ানবুর আরামকো স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনি বাহিনীর দাবি, উভয় অভিযানে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে এবং সামরিক লক্ষ্য সফলভাবে অর্জিত হয়েছে।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছে, ইয়ানবু ও জিজানমুখী হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা তারা নিশ্চিত করেনি।
ইয়েমেনি বাহিনী আরও দাবি করে, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর অবরোধ অব্যাহত রাখতে এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করতেই এ হামলা চালিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপের জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ বহাল থাকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ইয়েমেনের ভাষ্য, এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান ও অবরোধের প্রতিক্রিয়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তারা আরও জানায়, পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত ও তীব্র করা হতে পারে। ইয়েমেনের দাবি, সৌদি আরবের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তারা প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।
সময়ের আলো/কেএইচ