ঝালকাঠি পৌরসভায় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে লুটপাটের অভিযোগ

আতিকুর রহমান

সারাদেশ

ঝালকাঠি পৌরসভায় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খাল খনন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ঝালকাঠি চত্বর, নতুন গোরস্থান নির্মাণ, সড়ক

2026-07-26T14:21:06+00:00
2026-07-26T14:30:27+00:00
 
  রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ঝালকাঠি পৌরসভায় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে লুটপাটের অভিযোগ
আতিকুর রহমান
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ পিএম  আপডেট: ২৬.০৭.২০২৬ ২:৩০ পিএম
ঝালকাঠি পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের নামফলকে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ নেই। ছবি : সময়ের আলো
ঝালকাঠি পৌরসভায় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খাল খনন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ঝালকাঠি চত্বর, নতুন গোরস্থান নির্মাণ, সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ও ফুটপাত নির্মাণে ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মানবিক দান-অনুদান সহায়তা বাবদ কয়েক লাখ টাকা দানের নামে সিংহভাগ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং সচেতন মহল যাতে প্রতিটি প্রকল্পের কোনটাতে কি পরিমাণ বরাদ্দ তা জানতে না পারে, এজন্যেই নামফলক বা ভিত্তি ফলকে বরাদ্দ উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সারাদেশের মতো ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়রকেও অপসারণ করে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রশাসক পদে আসীন হন ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার ও সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন। ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এর আগে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দে পৌর এলাকার ৭টি খাল খননের টেন্ডার দিয়ে ২৮ আগস্ট কাজ উদ্বোধন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম। ৬টি খালের খনন কাজ শুরু করে মাঝপথে থেমে যায় প্রকল্পটি। একটি খাল খনন কাজ শুরুই করতেই পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ এবং একে অপরকে দোষারোপ করছে।

নামফলকে উল্লেখ নেই বরাদ্দের পরিমাণ। ছবি : সময়ের আলো

নামফলকে উল্লেখ নেই বরাদ্দের পরিমাণ। ছবি : সময়ের আলো


এছাড়া, ৬টি খাল এলোমেলো খনন করে ফেলে রাখায় বর্তমান বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ময়লা আবর্জনায় খালগুলো নর্দমায় পরিণত হয়ে মশা প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বরাদ্দের অর্ধেক পরিমাণ কাজ না হলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমিরী বিল্ডার্সকে ৭০ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করে পৌর কর্তৃপক্ষ।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাস্তা কার্পেটিং এবং সিসি ঢালাইসহ মোট ৩.৬ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার, ৮৫০ মিটার ড্রেন নির্মাণ, ৫০০মিটার ফুটপাত নির্মাণ এবং ১১টি অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ করা হয়েছে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যার কাজের বিল হিসেবে ইতোমধ্যে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা পরিশোধও করা হয়েছে।

এছাড়াও, পৌরসভার জরুরি মেরামত বাবদ এডিবি প্রকল্পের ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০ লাখ টাকায় ৮৭৫ মিটার পিচঢালাই রাস্তা কার্পেটিং বরাদ্দ দেয় পৌর প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন।

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নামমাত্র দায়সারা কাজ করিয়ে অভূতপূর্ব লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পৌরবাসিন্দাদের। এসব কাজের বড় বড় প্রকল্প দেওয়া হয়েছে জেলার বাইরে প্রশাসকের ঘনিষ্ঠজনকে, এমনটাই অভিযোগ তাদের।


মনির হোসেন বলেন, ‘খাল খননের নামে খালগুলোকে নষ্ট করে রেখেছে। সেখানে এখন মশার প্রজনন কেন্দ্র তৈরি হয়েছে, যার জন্য ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু রোগী দিন দিন বেড়েই চলছে। অন্যদিকে, পৌরসভার রাজস্ব থেকে খাল খননের নামে লাখ লাখ টাকা দুর্নীতি হয়েছে।’

কলেজ রোডের বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর বাদল বলেন, ‘শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে কলেজ মোড় পর্যন্ত রাস্তা কার্পেটিং কাজ শেষ হতে না হতেই আস্তর উঠে যাচ্ছে। পৌরসভায় অনেক কাজ করিয়েছি বলে পুরোটাই নিজের নাম প্রকাশের কর্মযজ্ঞ হয়েছে। মূলত জনগণের টাকায় উন্নয়নের নামে লুটপাট করা হয়েছে এবং ভোগান্তি আরও বেড়েছে।’

জেলা ছাত্রদলের যুগ্মআহ্বায়ক মুবিনুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘কাওছার সাহেবের আমলে তার ঘনিষ্ঠজন এবং পৌরসভার কিছু আত্মীয় ছিল কাজ ভাগিয়ে নিতে। এক টাকার কাজও সিন্ডিকেটের বাইরে যায়নি।’

আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘কয়েক বছর আগে যেই রাস্তার সংস্কার ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় করা হয়েছিল, সেই রাস্তা করেছে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে। যদি নামফলক বা ভিত্তিফলক দেয়, তাহলে তো থলের কালো বিড়াল বের হয়ে যাবে।’


মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, জেলা সুজন সম্পাদক ও টিআইবির সনাক সদস্য ইসমাঈল মুসাফির বলেন, ‘খাল খননে বরাদ্দ হওয়া ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার কাজ শেষ না করেই ৭০ লাখ টাকার চলমান বিল উত্তোলনের মানে হলো, অর্ধেকেরও বেশি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারই জবাব দেওয়া উচিত, এটি কীভাবে সম্ভব হলো। আর পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের নামফলকে বা পাশে বড় সাইনবোর্ডে অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করতে অন্তত নীতিগতভাবে হলেও পৌরসভা বাধ্য। এছাড়া, পৌরসভার রাস্তা মেরামতে অনিয়মের বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট। এই সব কটি বিষয়ে সুজনের পক্ষ থেকে আমরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইব এবং টিআইবির সনাক সভায় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ঝালকাঠি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী টি. এম রেজাউল হক রিজভী বলেন, ‘খাল খননের পরিমাণ হয়েছে ৫৩%। তাই তাদের কাজের চলমান বিল দেওয়া হয়েছে। রাস্তার কার্পেটিং নির্মাণের পরে উঠে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমিরী বিল্ডার্সকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যান্য কাজের গুণগত মান রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে অবশ্যই কৈফিয়ত দিতে হবে।’

এ ব্যাপারে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও সাবেক পৌর প্রশাসক মো. কাওছার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   ঝালকাঠি  পৌরসভা  উন্নয়ন প্রকল্প  লুটপাট  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: