দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যেন তালা ঝুলছে না, অথচ সেবা বন্ধ! গত ১৭ জুন নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার কামরুন নাহার দুই মাসের প্রশিক্ষণে যাওয়ার পর থেকেই অফিসে তৈরি হয়েছে অভিভাবকহীনতা। অতিরিক্ত দায়িত্বে আসা কর্মকর্তাও অসুস্থতার অজুহাতে ছুটি নেওয়ায় টানা ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্থবির হয়ে আছে জমি কেনাবেচার নিবন্ধন।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাসে যেখানে ১৫০ থেকে ২০০টি দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় হতো, সেখানে এখন প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন সেবাপ্রার্থী এসে খালি হাতে ফিরছেন। ব্যাংক ঋণ, জমির নামজারি কিংবা জরুরি অর্থসংকটে জমি বেচাকেনা- সব আটকে আছে এই এক দফতরের অচলাবস্থায়।
উপজেলার জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব বলেন, ‘টাকার লেনদেন অনেক আগেই শেষ, বাকি শুধু দলিল নিবন্ধন। প্রতিদিন অফিসে আসি আর ফিরে যাই। কাজ ঝুলে থাকায় চরম বিপদে আছি।’
ব্যাংক ঋণগ্রহীতা অন্য এক সেবাপ্রার্থী বলেন, ‘ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের জন্য জমি মর্টগেজ রাখা জরুরি। কিন্তু কর্মকর্তা না থাকায় প্রতিদিন ঘুরতে হচ্ছে। ব্যবসার বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।’
ঘোড়াঘাট দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুজ্জামান রাখু জানান, সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকেন্দ্রিক শত শত মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। জেলা রেজিস্ট্রার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু কাজ না হওয়া পর্যন্ত প্রহর গোণা ছাড়া ঘোড়াঘাটবাসীর যেন আর কোনো উপায় নেই!
এ বিষয়ে দিনাজপুরের জেলা রেজিস্ট্রার সাজেদুল হক জানান, নতুন কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়েছে, যিনি আগামী ২৯ জুলাই (বুধবার) থেকে অফিসে বসবেন।
তবে স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, প্রশাসনিক এই গাফিলতির কারণে সেবাপ্রার্থীদের যে খেসারত দিতে হলো, ভবিষ্যতে যেন এমন না হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই দফতরে আগে থেকেই বিকল্প কর্মকর্তা নিশ্চিত করার স্থায়ী সমাধান চান তারা।
সময়ের আলো/মহু