ঝালকাঠিতে ১২ কোটি টাকার আমড়া উৎপাদন

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি

সারাদেশ

ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে আমড়ার বাজার। ভিমরুলীর ভাসমান হাটে এখন তাজা আমড়ার সমারোহ। কৃষি বিভাগ বলছে, অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায়

2026-09-10T03:00:08+00:00
2026-09-10T03:00:08+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ঝালকাঠিতে ১২ কোটি টাকার আমড়া উৎপাদন
আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০০ এএম 
ঝালকাঠির ভিমরুলী ভাসমান হাটে জমে উঠেছে আমড়ার বাজার। ছবি : সময়ের আলো
ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে আমড়ার বাজার। ভিমরুলীর ভাসমান হাটে এখন তাজা আমড়ার সমারোহ। কৃষি বিভাগ বলছে, অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় এ জেলায় দিন দিন বাড়ছে আমড়ার চাষ।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলার ৬০৫ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ হয়েছে। চার হাজার পাঁচশ নব্বই মেট্রিক টন আমড়া উৎপাদন হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০২ হেক্টর জমিতে আমড়ার আবাদ করা হয়েছিল। ওই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল চার হাজার সত্তর মেট্রিক টন। দুই বছরের ব্যবধানে আমড়ার আবাদ বেড়েছে তিন হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৫২০ মেট্রিক টন।
দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা রয়েছে বরিশাল অঞ্চলের আমড়ার। সুস্বাদু এই ফলের চাহিদার বেশিরভাগই পূরণ হচ্ছে ঝালকাঠি থেকে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন হাটে চলে আমড়ার কেনাবেচা। এর মধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। এ হাট থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয় পুষ্টিকর এ ফল। বিপুল চাহিদা থাকায় ও লাভজনক হওয়ায় জেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে আমড়ার আবাদ।

Advertisement
এ বছর আমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে আমড়া কিনছেন এক হাজার থেকে ষোলোশ টাকা মণ দরে।

আমড়াচাষি ও পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমড়ার আকার ও কালারভেদে দর নির্ণয় করা হয়। এ জন্য এক হাজার থেকে ষোলোশ টাকা পর্যন্ত দামে প্রতি মণ আমড়া বিক্রি করা হয়।

আমড়াচাষি সুজন হালদার শানু জানান, ৬ বিঘা জমিতে আমড়ার চাষ রয়েছে। মৌসুমি ফল হিসেবে এ বছর আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে থাকা প্রতিটি গাছ থেকে চার হাজার টাকার আমড়া নামবে। সর্বসাকুল্যে ৬ বিঘা জমি থেকে ৬ লাখ টাকা অর্জন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


কীর্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বনামধন্য কৃষক ভবেন্দ্রনাথ হালদার জানান, পেয়ারা চাষে এখন আর লাভ নেই। এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারার ফলন ভালো হয়নি। যা হয়েছে তাতে আবার এনথ্রাক্স (কালো ছিট পড়া) রোগ দেখা দিয়েছে। পেয়ারা পাকতে শুরু করলে প্রতিদিনই গাছ থেকে পেরে বাজারে আনতে হয়। একজন শ্রমিককে খরচ সাতশ টাকা দিতে হয়, কিন্তু পেয়ারা বিক্রি হয় চারশ টাকার। এর চেয়ে জমিতে আমড়ার আবাদ করলে লাভ বেশি হয়। প্রতিটি গাছে ৩-৪ মণ আমড়া ধরে। দুজন শ্রমিক নিয়োগ করলে তারা ১০-১২টি গাছের আমড়া পাড়তে পারে। প্রতিদিন আমড়া পাড়তে হয় না, পরিপক্ব হলে এক দিনেই সব পাড়ানো সম্ভব। তা ছাড়া একটি বাতাবিলেবু (জাম্বুরা) গাছ লাগালেও সেখান থেকে কমপক্ষে দুই হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।

স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান বলেন, ফলন মোটামুটি ভালো। আমরা এখানে চাষিদের থেকে আমড়া কিনে ঢাকায় চালান করি। প্রতি মণ আমড়াতে দুইশ টাকা লাভ থাকে। এর মধ্যে আমাদের শ্রমিক, পরিবহন, খাবার খরচ শেষে একশ টাকা লাভ হয়।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এ জেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে আমড়ার আবাদ। ফলে শিক্ষিত ও বেকার যুবসমাজের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   ঝালকাঠি  আমড়া  উৎপাদন 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: