হাটহাজারীর বিভিন্ন স্থানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) কর্তৃক পূর্ব স্থাপিত সঞ্চালন লাইনের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্যারালাল লাইন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এতে করে দুই সঞ্চালন সংস্থার কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। তাই ঝুঁকি এড়াতে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
দায়িত্বশীল ভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ সেবা সহজলভ্য করতে সরকার পিডিবি থেকে আলাদা করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নামে ভিন্ন একটি সংস্থা সৃষ্টি করে আশির দশকের শেষ দিকে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগ্রহী গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সেবা দিচ্ছে। এজন্য হাটহাজারিসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় বিউবোর সঞ্চালন লাইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিউবো বোর্ড পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক দীর্ঘ সময় বিউবো ও পবিস নিজ নিজ ভৌগোলিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আসছে। ইদানীং হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা, ভবানীপুর, ফতেপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পাশ্বে পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের পাশাপাশি বিউবো প্যারালাল লাইন নির্মাণ করে গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু প্যারালাল লাইন নয় একই ভবনে পবিস ও বিউবোর দুই সংস্থার মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকদের নিকট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি নিয়ম লঙ্ঘন করে পবিস খুঁটি ব্যবহার করে বিউবো বিদ্যুৎ সরবরাহ করার বিষয় ও স্থানীয়রা গণমাধ্যমকে জানান। চবি দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন নতুন ভবনে সংযোগ প্রদানের জন্য পিডিবি পবিস এর খুঁটি ব্যবহার করছে, স্থানীয় বাশার ম্যানসনে অনুরূপ পবিসের দুটি খুঁটি ব্যবহার করছে, নুর ফাতেমা ভিলায় পবিস ৮টি মিটার সংযোগ পূর্বে থেকে ছিল, কিন্তু সেখানে বিউবো ৬ ডুপ্লেক্স তার দিয়ে পবিস এর দুটি খুঁটি ব্যবহার করে নতুনভাবে ৪টি মিটার সংযোগ প্রদান করা হয়েছে, শ্যামল ছায়া ভবনে পবিস এর ৪টি মিটারে সংযোগ থাকা সত্ত্বে ও পিডিবি নতুনভাবে একটি মিটারে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে, নিরিবিলি ভবনে পবিস এর ৫টি মিটারে সংযোগ থাকা সত্ত্বেও পিডিবি নতুনভাবে ১টি মিটারে একই ভবনে সংযোগ প্রদান করেছে। এইভাবে প্যারালাল লাইন ও সংযোগ প্রদানের কারণে দুই সঞ্চালন সংস্থার কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ দুই সংস্থা একই সঙ্গে লোডশেডিং করেনা। এক সংস্থার লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক থাকলে অন্য সংস্থার গ্রাহকেরা পিডিবি কিংবা পবিস কর্তৃপক্ষ অবহিত করলে বিদ্যুৎ কর্মীরা ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে গিয়ে গ্রাহকদের অজ্ঞতার কারণে হামলার শিকার হওয়া অমূলক নয় বলে সচেতন মহল মত প্রকাশ করেন।
হাটহাজারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ খায়রুল বাশার ভুঁইয়া জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিপত্র মোতাবেক বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেমের বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য সব সংস্থা/কোম্পানি সমূহকে স্ব স্ব ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে থাকার কথা বলা আছে। এ লক্ষ্যে, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের সময় বিতরণকারী সংস্থা/ কোম্পানি সমূহের মধ্যে বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য সরকারের ৩ নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান/ লাইন নির্মাণের সময় নির্ধারিত ভৌগোলিক সীমানায় অনুপ্রবেশ করা যাবেনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে রুদ্র পল্লী রোডে অবস্থিত হাজী আমিন ম্যানসন হতে এম এম ম্যানসন (ইকরা তাহফিজুল কুরআন মডেল মাদ্রাসা) সহ বিভিন্ন স্থানে পিডিবি প্যারালাল লাইন নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড হাটহাজারীর নির্বাহী প্রকৌশলীর বরাবরে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং/ ৩১ আগস্ট পর পর পত্র প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে বাবিউবোর হাটহাজারীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইনুদ্দিন জুয়েলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিউবো গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। তাছাড়া পবিস বিউবো থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে গ্রাহকদের সরবরাহ করছে। বিউবো নিজে উদ্যোগী হয়ে পবিস ভৌগোলিক সীমানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার সুযোগ নেই। পবিস খুঁটি ব্যবহার করে সংযোগ প্রদান এবং সমিতির মিটার সংযুক্ত একই ভবনে পিডিবি মিটার স্থাপনের বিষয়ে তিনি গ্রাহকদের চাহিদার কথা বলেন তবে প্যারালাল লাইনের কারণে কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে তিনিও একমত প্রকাশ করেন।
সময়ের আলো/জোই