বিদেশে ধর্মীয় শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা ও নাগরিকত্ব বাতিলের কঠোর সিদ্ধান্ত বুরকিনা ফাসোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সামরিক শাসক ইব্রাহিম ত্রাওরে। মুসলিম আলেমদের উদ্দেশে

2026-07-26T16:32:27+00:00
2026-07-26T16:34:04+00:00
 
  রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বিদেশে ধর্মীয় শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা ও নাগরিকত্ব বাতিলের কঠোর সিদ্ধান্ত বুরকিনা ফাসোর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩২ পিএম  আপডেট: ২৬.০৭.২০২৬ ৪:৩৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সামরিক শাসক ইব্রাহিম ত্রাওরে। মুসলিম আলেমদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামকে যদি চরমপন্থার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে সরকার তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনকে সমর্থন জানিয়ে উগ্রবাদ প্রচারের অভিযোগে ইমামদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে ইব্রাহিম ত্রাওরে বলেন, ইসলামকে চরমপন্থার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, “যদি এটিই আপনাদের ইসলাম হয়, তাহলে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। উগ্রপন্থীদের পরিবর্তন হতে হবে। তা না হলে লড়াই শুরু হয়ে গেছে।”

ত্রাওরে বলেন, সরকারের বিতর্কিত ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন দেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, যেসব ইমাম খুতবায় উগ্রবাদ ছড়াবেন, তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে। তবে যারা শান্তিপূর্ণ ইসলামের প্রচার করেন, তাদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

গত মে মাসে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের খসড়ার সমালোচনা করায় দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দোকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলে রাজধানী ওয়াগাদুগুর বৃহত্তম সুন্নি মসজিদ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর তার প্রায় ১০০ সমর্থককে ‘নাগরিক প্রশিক্ষণ’-এর নামে একটি সামরিক শিবিরে পাঠানো হয়। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে ইমাম মাহমুদ বারোকেও আটক করা হয়েছিল।


চলতি বছরের ২০ জুন অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন পাস করে। আইনে শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা এবং কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কিছু ধর্মীয় অনিয়মের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই আইন ধর্মনিরপেক্ষ সাংবিধানিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ কেবল একটি আইনকে ঘিরে নয়; বরং ২০২২ সালে ক্ষমতা দখলের পর সামরিক সরকারের সঙ্গে মুসলিম আলেমদের যে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জঙ্গি সংকট মোকাবিলাও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে বিদেশে ইসলামি শিক্ষা গ্রহণে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও নতুন কড়াকড়ির ঘোষণা দিয়েছেন ত্রাওরে। তিনি বলেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করা যাবে না। পাশাপাশি বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে আসতে হবে, অন্যথায় তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে একই সময়ে বুরকিনা ফাসো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে। সম্প্রতি দেশটিতে ইসরাইলের নতুন রাষ্ট্রদূত সাইমন সেরুসি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   বুরকিনা ফাসো  আলেম  সামরিক সরকার 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: