শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের পর ভারতের রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, দিল্লি মেট্রোর সব স্টেশন এখন যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণভাবে চালু রয়েছে। সব স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুবিধা স্বাভাবিক করা হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলনের কারণে নিরাপত্তাজনিত কারণে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, মান্ডি হাউস, সুপ্রিম কোর্ট, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, নিউ দিল্লিসহ রাজধানীর প্রায় ১৭ থেকে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। যদিও ইন্টারচেঞ্জ পরিষেবা চালু ছিল, তবুও সাধারণ যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। দলটির দাবি, সরকার তাদের বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং নিট প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যার অভিযোগ থাকা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
এদিকে, প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার নতুন আইন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে পরীক্ষায় অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনেরও প্রস্তাব রয়েছে।
রোববার সকাল থেকে দিল্লি মেট্রোর সব স্টেশনে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং রাজধানীর সার্বিক পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ