ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তার জন্য একটি "নতুন কর্মক্ষেত্র" এবং এত বড় মন্ত্রণালয়ের কাজ ও কাঠামো আগে ভালোভাবে বুঝে নেওয়াই তার প্রথম অগ্রাধিকার।
রাষ্ট্রপতি ভবনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রহ্লাদ জোশিকে অতিরিক্তভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের জেরে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর এই দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রহ্লাদ জোশি বলেন, এটি আমার জন্য নতুন একটি ক্ষেত্র। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অত্যন্ত বড় একটি বিভাগ। তাই প্রথমে আমি এর কাজ, বিভিন্ন বিষয় এবং অগ্রাধিকারগুলো ভালোভাবে বুঝতে চাই। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব।
এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা মনীশ সিসোদিয়া একে "জেন-জি শিক্ষার্থীদের বিজয়" বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে দুটি প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে মুম্বাইয়ে একটি বিজয় মিছিলের নেতৃত্ব দেন। তারা ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য উদ্যাপন করেন এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।
রাজধানী দিল্লিতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর দিল্লি মেট্রোর সব স্টেশন আবার যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ থাকা প্রবেশ ও প্রস্থান পথও পুনরায় চালু করা হয়েছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আন্দোলনের সাফল্যকে "ঐতিহাসিক বিজয়" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি সংবিধানের শক্তির প্রমাণ এবং এটি কেবল শুরু।
প্রায় ৩৬ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে অনশন, বিক্ষোভ, পুলিশি অভিযান, লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের মতো একাধিক ঘটনা ঘটে। শতাধিক আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। শেষ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে আন্দোলনের অবসান ঘটে এবং রাজধানীতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসতে শুরু করে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ