ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তা মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর মেয়ে অর্চিতা সারঙ্গী। তার এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর অর্চিতা সারঙ্গী ইনস্টাগ্রামে সেই খবর শেয়ার করেন। পরে তিনি আরেকটি স্টোরিতে দাবি করেন, আগের পোস্টটি মুছে ফেলার জন্য তার ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে অর্চিতা লেখেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পিএ, যিনি নিশ্চিতভাবেই আমার মাকে মেসেজ করে আগের স্টোরি মুছে ফেলতে বলবেন (এটি আগেও হয়েছে), তিনি কষ্ট করবেন না। আমি পোস্টটি মুছব না। জয় জগন্নাথ! জয় হিন্দ!
এই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে জল্পনা শুরু হয় যে, পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর অর্চিতা সারঙ্গীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর সক্রিয় দেখা যায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার অ্যাকাউন্টটি ডিঅ্যাক্টিভেট করা হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্টটি কেন অদৃশ্য হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গী ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের মাধ্যমে ধর্মেন্দ্র প্রধান সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে ধর্মেন্দ্র প্রধান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে চলা ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। সরকার আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নিয়েছে বলে সিজেপি দাবি করে।
পদত্যাগের পর এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের তরুণদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি আরও জানান, জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় না জড়ানো এবং আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো ‘দেশবিরোধী শক্তি’ যেন পরিস্থিতির অপব্যবহার করতে না পারে— এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
এদিকে, আন্দোলন প্রত্যাহারের আগে সিজেপি সরকারের কাছে শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারও বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ থাকা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর এসব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ