ককরোচদের ৩৬ দিনের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫০ পিএম
২৮ জুন আন্দোলনে নতুন গতি আসে, যখন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থলে অনির্দিষ্টকালীন অনশন শুরু করেন। ছবি : হিন্দুস্তান টাইমস
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে ছোট পরিসরের প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশব্যাপী রূপ নেয়। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)-এর ৩৬ দিনের আন্দোলনে লক্ষাধিক সমর্থক যোগ দেন, দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো—
৬ জুন : আন্দোলনের সূচনা
৬ জুন নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি তাদের প্রথম প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে।
১১ জুন : পাঁচ দফা সংস্কার প্রস্তাব প্রকাশ
আন্দোলনের পাঁচ দিন পর, ১১ জুন সিজেপি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি পাঁচ দফা ইশতেহার প্রকাশ করে।
২০ জুন : অনির্দিষ্টকালীন অবস্থান শুরু
দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০ জুন আন্দোলন আরও তীব্র হয়। সিজেপি যন্তর মন্তরে ২৪ ঘণ্টার অনির্দিষ্টকালীন অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে।
২৮ জুন : সোনম ওয়াংচুকের অনশন
আন্দোলনের গতি বাড়ে ২৮ জুন। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের সমর্থনে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালীন অনশন শুরু করেন।
এরপরের কয়েক সপ্তাহে দিল্লির অবস্থান কর্মসূচিতে আরও মানুষ যোগ দেন এবং দেশের বিভিন্ন শহরে সিজেপির সমর্থনে বিক্ষোভ শুরু হয়।
১৮ জুলাই : অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ওয়াংচুক
প্রায় তিন সপ্তাহ অনশনের পর ১৮ জুলাই সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
যন্তর মন্তর থেকে সোনম ওয়াংচুককে সরানো হয়। ছবি : হিন্দুস্তান টাইমস
২০ জুলাই : ‘চলো সংসদ’ মিছিল ও সংঘর্ষ
২০ জুলাই আন্দোলন চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কয়েক হাজার মানুষ ‘চলো সংসদ’ মিছিলে অংশ নেন।
মিছিল ঘিরে নিরাপত্তারক্ষী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতির জেরে ২০০১ সালের পর প্রথমবারের মতো সংসদের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সেদিনই সিজেপির একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি তুলে ধরে।
নয়াদিল্লির সংসদ মার্গে সিজেপির প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন সমর্থকরা। ছবি : হিন্দুস্তান টাইমস
২১–২৪ জুলাই : আলোচনা ও অনশন প্রত্যাহার
২১ জুলাই সোনম ওয়াংচুককে গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়। ২১ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কথিত কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।
২৩ ও ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর গুরুগ্রামের হাসপাতালেই ওয়াংচুক অনশন শেষ করেন।
একই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ভিডিও বার্তায় দেশের তরুণদের আশ্বস্ত করেন যে, অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে।
২৪ জুলাই দিল্লির বাইরেও আন্দোলনের প্রভাব দেখা যায়। পাটনা, মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরে সিজেপির সমর্থনে বড় আকারের বিক্ষোভ হয়।
সেদিন সিজেপি প্রতিনিধি দল আবার নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে। পাশাপাশি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তার পরিষেবা বাতিল করে।
নয়াদিল্লিতে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের বৈঠক। ছবি : হিন্দুস্তান টাইমস
২৫ জুলাই : ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনের সমাপ্তি
আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি পূরণ হয় ২৫ জুলাই, যখন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
এরপর সিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর মধ্য দিয়ে ৩৬ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।