বাগেরহাটের কচুয়া ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার চারটি খাল পুনখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত ৭৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা দুটি। প্রশাসনের এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপ, শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
জানা গেছে, কচুয়া প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ৩৩ হাজার ১৪২ টাকা, এর মধ্যে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৩ টাকা। খাল পুনখনন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল দড়িটানা থেকে বলেশ্বর নদীর সংযোগ পর্যন্ত ১ কিলোমিটার। অন্যদিকে মঘিয়া ইউনিয়নের কুন্ডুপাড়া থেকে খলিশাখালী পর্যন্ত ১ কিলোমিটার খাল পুনখননের কাজ শেষ হয়েছে। সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা নিশ্চিত করতে খাল পুনখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী হাসান বলেন, কচুয়াতে আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে দুটি খাল পুনখননের বরাদ্দ পায়। একটি গোপালপুর খাল আর একটি মঘিয়া খাল। আমরা নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে খাল পুনখনন সম্পন্ন করেছি। খনন সম্পন্ন করে যে অব্যবহৃত অর্থ ছিল ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে জমা দেয়া হয়েছে। খাল খননের ফলে ওই এলাকার মানুষের বেশ উপকার হবে এবং যে জলাবদ্ধতা আছে সেই জলাবদ্ধতাগুলো নিরসন হবে।
তিনি আরও বলে, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।
একইভাবে, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া দুটি খাল পুনখনন শেষে প্রকল্পের অব্যবহৃত ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন ওই উপজেলার প্রশাসন। এ ছাড়া ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনখনন প্রকল্পের মোট ২ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ থেকে ভ্যাট ও আয়কর বাবদ আরও ১৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্প থেকে প্রায় ৫৮ লাখ টাকা ফেরত পেল সরকার।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ জানান, বলইবুনিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং খাউলিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জনগুরুত্বপূর্ণ দুটি খাল পুনখনন করা হয়েছে। একই সঙ্গে খালে ৬টি কাঠের পুল নির্মাণ ও ১০ হাজার গাছের চারা রোপণের জন্য দুটি পৃথক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্প দুটিতে মোট ৪৩৮ জন শ্রমিক কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, পরিবেশ, প্রকৃতি ও দেশীয় মাছ রক্ষায় গৃহীত দুটি প্রকল্পের কাজের মান বজায় রেখেই নির্ধারিত সময়ে শেষ করা হয়েছে। শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করায় বরাদ্দের সমুদয় অর্থ খরচ হয়নি। তাই অব্যবহৃত টাকা বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ