গাইবান্ধাকে রংপুর থেকে বগুড়া নেওয়ার প্রস্তাবে সমালোচনার ঝড়

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশ

গাইবান্ধা জেলাকে রংপুর বিভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে প্রস্তাবিত নতুন বগুড়া বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার একটি উদ্যোগ সম্প্রতি সামনে এসেছে সরকারের একজন

2026-07-26T22:07:03+00:00
2026-07-26T22:07:03+00:00
 
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
গাইবান্ধাকে রংপুর থেকে বগুড়া নেওয়ার প্রস্তাবে সমালোচনার ঝড়
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
গাইবান্ধা জেলাকে রংপুর বিভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে প্রস্তাবিত নতুন বগুড়া বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার একটি উদ্যোগ সম্প্রতি সামনে এসেছে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়; ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গাইবান্ধাবাসীর একাংশ প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদ।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বিষয়টি সামনে আনেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বগুড়ারও বিভাগ হওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বগুড়াকে ঘিরে পাঁচ জেলা- বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা- নিয়ে নতুন বিভাগ গঠনের একটি বৈঠকে এই চার জেলার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।

চলতি বছরের শুরুতেই বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যা এই অঞ্চলে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ধারাবাহিকতার একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বগুড়ায় উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পাশাপাশি অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।

সেমিনারে অবকাঠামো, শিল্পায়ন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির আধুনিকায়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা বগুড়া কেন্দ্রিক এই আঞ্চলিক উন্নয়ন-উদ্যোগেরই সম্প্রসারিত রূপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন বগুড়া বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা- এই পাঁচ জেলা। এর মধ্যে গাইবান্ধা বর্তমানে রংপুর বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা, যার উত্তরে তিস্তা নদী ও কুড়িগ্রাম, পশ্চিমে রংপুর ও দিনাজপুর, দক্ষিণে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলার সীমানা রয়েছে। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে বগুড়া বিভাগের সঙ্গে গাইবান্ধাকে যুক্ত করার যুক্তি দেখানো হলেও, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে এই জেলার রংপুরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংযোগ নিয়েই মূল আপত্তি তুলছেন স্থানীয় মানুষ ও নেটিজেনরা।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে গাইবান্ধাবাসীর একাংশ প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। এই ক্ষোভের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রাজস্ব ও প্রশাসনিক ক্ষতির আশঙ্কা- অনেকে মনে করছেন, রংপুর বিভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে গাইবান্ধা স্থানীয় রাজস্ব ও প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা হারাতে পারে।

এর পাশাপাশি জোরালোভাবে উঠে এসেছে সাংস্কৃতিক নৈকট্যের প্রশ্নও। বহু মন্তব্যকারীর দাবি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার দিক থেকে গাইবান্ধার মানুষ রংপুরের সঙ্গেই বেশি একাত্ম বোধ করেন, বগুড়ার সঙ্গে নয়; তাই কোনোভাবেই জেলাটিকে রংপুর বিভাগ থেকে আলাদা করা ঠিক হবে না বলে তাঁরা মনে করছেন।

আবার উন্নয়ন বনাম আইনশৃঙ্খলা নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক। একদল মনে করছেন, বগুড়া কেন্দ্রিক বিভাগ হলে সামগ্রিক আঞ্চলিক উন্নয়নে গতি আসবে, আবার আরেক দল বগুড়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গ টেনে এই উদ্যোগের সমালোচনা করছেন।

তবে সবচেয়ে জোরালো আপত্তি এসেছে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েই। বহু নেটিজেনের প্রশ্ন, এত বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রস্তাবনা বা সুপারিশের আগে গাইবান্ধাবাসীর মতামত কেন নেওয়া হলো না; তাঁদের দাবি, স্থানীয় জনগণের ভোট বা জরিপ ছাড়া এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, সিলেট, বরিশাল কিংবা প্রস্তাবিত ফরিদপুরের মতো তুলনামূলক কম জেলা নিয়ে বিভাগ থাকতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বগুড়াকে কেন্দ্র করেও একটি বিভাগ গঠন যুক্তিসংগত। স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত একাধিক মতবিনিময় সভা ও সেমিনারে এই পাঁচ জেলার সমন্বিত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার উঠে এসেছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।


তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য মূলত একটি প্রস্তাব ও সুপারিশ হিসেবেই এসেছে, যা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হবে।

বিভাগ পুনর্বিন্যাসের মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে সাধারণত মন্ত্রিসভার অনুমোদন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন এবং প্রশাসনিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার হতে হয়। গাইবান্ধাসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের মতামত আনুষ্ঠানিকভাবে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা মেলেনি। এই অনিশ্চয়তাই আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিতর্ক ও উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   গাইবান্ধা  রংপুর  বগুড়া  প্রস্তাব  সমালোচনা  অসন্তোষ  প্রতিবাদ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: