বান্দরবানে ৮১টি করাতকলের ৩৬টিই অবৈধ, পরিবেশ ও জনজীবন বিপন্ন

বান্দরবান প্রতিনিধি

সারাদেশ

বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় কার্যক্রম চালানো ৮১টি করাতকলের মধ্যে ৩৬টিরই বন বিভাগের কোনো লাইসেন্স নেই। একই সঙ্গে প্রায় অর্ধশত করাতকলের পরিবেশগত

2026-09-14T15:31:29+00:00
2026-09-14T15:31:29+00:00
 
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
বান্দরবানে ৮১টি করাতকলের ৩৬টিই অবৈধ, পরিবেশ ও জনজীবন বিপন্ন
বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম 
করাতকলে কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি : সময়ের আলো
বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় কার্যক্রম চালানো ৮১টি করাতকলের মধ্যে ৩৬টিরই বন বিভাগের কোনো লাইসেন্স নেই। একই সঙ্গে প্রায় অর্ধশত করাতকলের পরিবেশগত ছাড়পত্রও নেই। বছরের পর বছর আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার পাশে এসব অবৈধ করাতকল চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে।

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪৫টি করাতকলের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে, যার মধ্যে ৩৫টির নবায়ন করা হলেও ১০টির মেয়াদোত্তীর্ণ। অন্যদিকে বন বিভাগের হিসাব বলছে, ৮১টির মধ্যে মাত্র ৪৫টির লাইসেন্স রয়েছে এবং বাকি ৩৬টি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

করাতকল স্থাপন ও পরিচালনা বিধিমালা, ২০১২ অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে করাতকল স্থাপনের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বান্দরবানে এর কোনো বালাই নেই। জেলা সদরের উজানীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে এবং বালাঘাটাসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় দিব্যি চলছে এসব করাতকল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, করাতকলের তীব্র শব্দদূষণ, কাঠবাহী ভারী যানবাহনের চলাচল এবং কাঠের বর্জ্যের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, বান্দরবান বিভাগীয় বন বিভাগের অধীনে ১৩টি এবং পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের অধীনে ৮টি করাতকল রয়েছে। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি ৬০টি করাতকল রয়েছে লামা বিভাগীয় বন বিভাগের অধীনে; যার মধ্যে লামায় ২১টি, আলীকদমে ৯টি এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩০টি করাতকল পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন করাতকল মালিক বা তাদের কর্মচারীরা বৈধ কাগজপত্রের বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে জেলা করাতকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. রফিক দাবি করেন, তারা বন বিভাগ থেকে লাইসেন্স নিয়ে নিয়মিত নবায়ন করলেও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেননি।

উজানীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মংহ্লাচিং মার্মা ও ক্যসাইনুং মার্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকার পাশের করাতকলগুলোর বিকট শব্দে পড়াশোনা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাঘাটও নষ্ট হচ্ছে।

অবৈধ এসব করাতকলের বিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নূর হাসান সজীব জানান, যেসব করাতকলের ছাড়পত্র নেই বা নবায়ন করা হয়নি, সেগুলোকে দ্রুত নোটিশ দেওয়া হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই সুরে লামা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও যারা লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র নিচ্ছেন না, খুব দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   বান্দরবান  করাতকল  পরিবেশ  জনজীবন বিপন্ন  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: