পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অবৈধভাবে সার পরিবহন ও মজুদের দায়ে পৃথক দুই অভিযানে ৫৮ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এসময় সার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে এক ব্যবসায়ী ও তিন ভ্যানচালককে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দকৃত এই সারগুলো কৃষি অফিসের মাধ্যমে সাধারণ কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিরনইহাট থেকে তিনটি ভ্যানে করে ৩৫ বস্তা সার অবৈধভাবে শালবাহান হাটে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ভ্যানগুলো আটকে প্রশাসনকে খবর দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসাইন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন এবং মডেল থানার ওসি লাইছুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
এ ঘটনায় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ভ্যানচালক আক্তারুল, সাহেদুল ও ছানোয়ার হোসেনকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে সার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রেশমা ট্রেডার্স-এর ম্যানেজার শাকিল হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সারগুলো স্থানীয় চা-বাগান মালিক ও মুদি দোকানদার হারুনের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
এদিকে একই রাতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশের নেতৃত্বে তিরনইহাট ইউনিয়নের মানিক ইসলামের বাড়িতে দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা আরও ২৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়। যার মধ্যে পটাশ ৪ বস্তা, বিআরবি ডাব ১১ বস্তা এবং টিএসপি ৮ বস্তা রয়েছে। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত মানিক ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এরপর পার্শ্ববর্তী আরও দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও সেখানে অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। জব্দকৃত মোট ৫৮ বস্তা সার বর্তমানে প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে এবং দ্রুত সাধারণ কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের ঝটিকা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা প্রশাসনের এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সার নিয়ে কারসাজি করার সুযোগ পাবে না।
সময়ের আলো/এনএন